Subscribe our Newsletter.

  • Posted on
    Friday, February 28, 2014
  • Views: 5158
  • Comment: 0
  • Rating:
    3.00 2 Votes

People will seen Swastika Mukherjee nude in her next movie “Take-One”.

Share on Facebook
People will seen Swastika Mukherjee nude in her next movie “Take-One”.

অভিনেত্রীর নাম স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। পরিচালকের নাম মৈনাক ভৌমিক। ছবির নাম ‘টেক ওয়ান’।

সে ছবির কিছু ‘স্টিল’ দেখার পরে আনন্দplus-এর পক্ষ থেকে স্বস্তিকা আর মৈনাককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল দু’জনের মেডিক্লেম করানো আছে কি না। মৈনাকের পাল্টা জবাব, “একবার করে রেখেছি। ডাবল করে করা উচিত কি?”

হ্যাঁ, করাই উচিত। কারণ এর আগে কোনও বাঙালি অভিনেত্রীর সম্পূর্ণ সম্মুখ নগ্নতার দৃশ্য নিয়ে সিনেমা কলকাতায় বাণিজ্যিক মুক্তি পায়নি। চলচ্চিত্র উৎসব বা পাইরেটেড ডিভিডি-র দৌলতে সেগুলোর সঙ্গে দর্শকের পরিচিতি।

‘টেক ওয়ান’ সে অর্থে প্রথম বাংলা ছবি যেটা বাণিজ্যিক ভাবে বাংলায় মুক্তি পেতে চলেছে। ছবির সেন্সর পর্ব শেষ। এপ্রিলে মুক্তি পাবে সেই ছবি।

স্বস্তিকা সাফ বলেই দিয়েছেন যে তাঁর কেরিয়ারে এই রকম সাহসী চরিত্র আগে করেননি। তাঁর স্বভাবসুলভ স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিতে বলেন, “আমার মেয়েকে আমি ৮ মাস ব্রেস্টফিড করেছি। তার পরেও ক্যামেরার সামনে ইফ মাই বুবস ক্যান লুক সো গুড, আই অ্যাম হ্যাপি!”

আর অন্যরা কী বলছে তাতে স্বস্তিকার কিছু যায় আসে না। খুব ভাল করে জানেন যে, তাঁর এই ছবি বা চরিত্র নিয়ে আলোচনার আগেই অন্য গুজব ছড়িয়ে পড়বে। প্রশ্ন উঠবে, ‘টেক ওয়ান’য়ের এমএমএস দৃশ্যগুলো শ্যুটিং করার জন্য কি আপনিও... ‘ছত্রাক’য়ে পাওলির মতো বা ‘গাণ্ডু’র ঋ-র মতো... সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েছেন? তার পর হয়তো কেউ কেউ জানতে চাইবে কেন অভিনেত্রী হিসেবে রাজি হলেন এক নায়িকার জীবনে এমএমএস স্ক্যান্ডালের প্রভাব নিয়ে ছবি করতে? এর আরও পরে হয়তো প্রশ্ন করবে, কেনই বা এই ছবির মাধ্যমে তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এবং সমাজের দ্বিচারিতা তুলে ধরছেন দর্শকের সামনে?

যাঁদের নগ্ন দৃশ্য নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই, তাঁদের বলে রাখা ভাল যে কোনও কম্পিউটার গ্রাফিক্স নয়, এমএমএস দৃশ্যগুলোতে শ্যুটিং করেছেন স্বয়ং স্বস্তিকা। শুরু করেছিলেন একটা লঁজারি পরে। শেষে সম্পূর্ণ নগ্ন। শ্যুটিংয়ের আগে মৈনাককে তাঁর একটাই অনুরোধ ছিল শুধু। “বলেছিলাম যে এমন ভাবে যেন শ্যুটিং করা হয় যাতে দৃশ্যটা দেখে একদম বীভৎস না লাগে। গ্যাদগেদে বিচ্ছিরি দেখতে না লাগে। বরং দেখে যেন একটা ভাললাগা জন্মায়। আর বলেছিলাম খেয়াল রাখতে যাতে ‘টেক ওয়ান’ নিয়ে কোনও এমএমএস ক্লিপ না তৈরি হয়ে যায়,” বলছেন স্বস্তিকা।

শ্যুটিংয়ের সময় একটু ভয় ছিল ঠিকই। দিল্লির এক মডেল বলজিৎ-য়ের সঙ্গে শ্যুটিং। তাঁর সঙ্গে শ্যুটিংয়ের পরে স্বস্তিকার আর কোনও যোগাযোগ নেই। মৈনাকের সঙ্গে স্বস্তিকা অন্য ছবিতে বেশ কিছু চর্চিত দৃশ্যে শ্যুটিং করেছেন। কিন্তু কোথাও সম্পূর্ণ নগ্ন হননি। ‘টেক ওয়ান’য়ে এই প্রথম সেই অভিজ্ঞতা। শ্যুটিংয়ের সময় ঘরে শুধু মৈনাক। সঙ্গে ক্যামেরাম্যান সহ চার টেকনিশিয়ান। দৃশ্যটা মোটেই ওয়ান টেক-য়ে ও কে হয়নি। প্রায় তিন-চার ঘণ্টা লেগেছিল শ্যুট করতে।

বাঙালি নায়িকারা এর আগেও সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। শ্রীলঙ্কার পরিচালক বিমুক্তি জয়সুন্দরের ‘ছত্রাক’য়ে পাওলি আর অনুব্রতর ‘ওরাল সেক্স’য়ের দৃশ্য নিয়ে কত বিতর্কই না হয়েছিল। সে ছবির এক দৃশ্য ‘লিক’ হয়ে যাওয়ার পরেই সৃষ্টি হয় এমএমএস বিতর্ক। অনেকের ধারণা যে, ‘টেক ওয়ান’ সেই বিতর্ককে কেন্দ্র করেই বানানো। ছবিটা মুক্তির আগে আলাদা করে পাওলিকে দেখাতে চান না পরিচালক। বরং বলছেন, “ছবির ট্রেলারে আমি লিখেই দিয়েছি যে সিনেমাটা ২০১১র কিছু বাস্তব ঘটনার ছায়াতেই বানানো। শুধু পাওলির ঘটনা নয়। দু’-তিনটে ঘটনার উপর ভিত্তি করেই ‘টেক ওয়ান’ তৈরি।”

পাওলি ছাড়াও ঋ-কে বড় পর্দায় দু’বার সম্পূর্ণ নগ্ন দৃশ্যে দেখা গিয়েছে। কিউয়ের ‘গাণ্ডু’তে তিনি সঙ্গম দৃশ্যে বেশ স্বচ্ছন্দ। অমিতাভ চক্রবর্তীর ছবি ‘কসমিক সেক্স’য়েও তাই। এই ফিল্মে এক মা তাঁর ছেলেকে বোঝাচ্ছেন তার উৎপত্তি কোথা থেকে। এবং সেটা বোঝাতে গিয়ে বেশ কিছু দৃশ্যে এই মায়ের ভূমিকায় ঋ সম্পূর্ণ ভাবে নগ্ন।

‘টেক ওয়ান’য়ের রাশগুলোয় নিজেকে পর্দায় নগ্ন দেখে ভাল লাগার স্বীকারোক্তি শুনে রক্ষণশীল সমাজ তো কানে আঙুল দেবেই। তবে তা নিয়ে স্বস্তিকার কোনও টেনশন নেই। বরং হাসতে হাসতে আরও পাঁচটা সেনসেশনাল মন্তব্য করে বসেন তিনি। যাকে বলে স্বস্তিকার টেক ফাইভ:

 

১. আমাদের দেশে নীল নীতিন মুকেশ বা চন্দন রায় সান্যাল যদি সিনেমাতে নগ্ন হয়ে তাঁদের পশ্চাদ্দেশটা দেখান, তা হলে কোনও সমস্যা হয় না। কিন্তু যেই সে কাজটা একজন অভিনেত্রী করবেন, ওমনি সমাজে গেল-গেল রব। অনুব্রত তো ‘গাণ্ডু’ আর ‘ছত্রাক’ দু’টো ছবিই করেছে। কই, ওকে নিয়ে কোনও গসিপ নেই। কিন্তু চরিত্রের জন্য যদি কোনও নায়িকা ব্রা-প্যান্টি পরেন, ওমনি সমাজ তাঁকে বিচার করতে শুরু করে দেয়!

২. ‘ছত্রাক’য়ের এমএমএস ক্লিপগুলো কী তাড়াতাড়ি মানুষের মোবাইল ফোন আর ল্যাপটপে পৌঁছে গিয়েছিল! সবাই দেখেছে। কিন্তু মুখে অন্য কথা।

আমি এক সিনিয়র অভিনেত্রীকে আলোচনাও করতে শুনেছি যে তাঁর শাশুড়ি তাঁকে না কি বলেছিলেন এই রকম একটা ইন্ডাস্ট্রিতে কেন তিনি কাজ করছেন!

৩. ‘ছত্রাক’ দেখে আমার এক বারও মনে হয়নি কেন পাওলি ওই দৃশ্যটা করেছে।

৪. তবে দু’টো প্রশ্ন মনে এসেছিল। কী কারণে ওই দৃশ্যগুলো সৃজনশীল ভাবে শ্যুট করা হয়নি? আর ছবিটির বিদেশি ফেস্টিভ্যালের স্ক্রিনিংয়ে কেন ওই দৃশ্যগুলো এডিট করে দেওয়া হয়েছিল?

৫. মৈনাক যথেষ্ট ‘বোল্ড’ বলেই বাংলায় বসে এই ইন্ডাস্ট্রি এবং সমাজটা জেনেও এই রকম একটা সাহসী ছবি বানিয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও উন্নতি নিয়ে খুশি নয়। লোকে আড়ালে আমাকে এমনও বলেছে, “তোর অভিনয়টা দারুণ লেগেছে। ছবিটা চললে খুশি হব। আর ছবিটা না চললে আরও খুশি হব!” এ দিকে ট্যুইটারে সেই ছবির পরিচালককে গলা জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানানো হয়!

আর এই দ্বিচারিতাকে কেন্দ্র করেই নাকি ‘টেক ওয়ান’ ছবির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। ছবিতে স্বস্তিকার চরিত্র বিধবা। সন্তান আছে। এমএমএস স্ক্যান্ডালটা হওয়ার পরেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে তার নিজের পরিবারের সদস্যরাও তাকে কটাক্ষ করতে থাকে। “আবার পরে যখন সেই অভিনেত্রী কোনও পুরস্কার পায়, তখন তাঁর নিন্দুকরা একদম ইউ-টার্ন। সবাই তখন তাঁর বন্ধু হতে চায়। কোথাও অভিনেত্রীর সেই দৃশ্যগুলো শ্যুট করার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করিনি ছবিতে। বরং তাঁর প্রতি সংবেদনশীল মনোভাব রেখেই চিত্রনাট্যটা লেখা,” বলছেন মৈনাক।

আর ছবির প্রযোজক? ফিরাদুল হাসান? কেনই বা তিনি এই রকম একটা প্লট নিয়ে ছবি তৈরি করার ঝুঁকি নিতে গেলেন? সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নায়কের ভূমিকায় রেখে নিজের প্রথম ছবি (‘রূপকথা নয়’) প্রযোজনা করেছেন ফিরাদুল। সেখান থেকে এক লাফে একটা বিতর্কিত ছবিতে টাকা লগ্নির তাগিদটা কি শুধুমাত্র ছবির চাঞ্চল্যকর বিষয়? নাকি অন্য কিছু? ভয় হয়নি যে এই রকম একটা সিনেমা বানালে হয়তো তাঁর প্রযোজিত অন্যান্য ছবির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে? “ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন এই ছবির প্রযোজক আর পরিবেশক। বিতর্কটা তো আমাদের হাতে নয়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসা করতে আসিনি, ভাল ছবি করতে এসেছি। বিতর্ককে ভয় পাইনি। ‘টেক ওয়ান’ করেছি। এর পরে মঞ্চের বিতর্ক নিয়েও ছবি বানাচ্ছি,” বলছেন ফিরাদুল।

বিতর্ক মৈনাকের কাছে নতুন নয়। “এই ছবিতে সমাজের দ্বিচারিতাই দেখাতে চেয়েছি। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালয়ে ‘ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ দেখতে এত লাইন কেন পড়ে তা সবারই জানা। কিন্তু বাংলা ছবিতে যৌনতা নিয়ে কাজ করলেই মানুষের সমস্যা। আর এক বাঙালি নায়িকা যদি নগ্ন দৃশ্য শ্যুট করেন তা হলে তো তাঁকে নিয়ে চর্চার শেষ নেই,” বলছেন মৈনাক।

কেতন মেটার ‘রংরসিয়া’তে অভিনয় করেছেন নন্দনা দেব সেন। এক মডেলের ভূমিকায়। সৃজনশীল ভাবেই ছবিটির দৃশ্যায়ন হলেও সেখানে অভিনয় নিয়েও বেশ খানিকটা চর্চা হয়েছিল। কারণ? ছবিতে নন্দনার বক্ষদেশ উন্মোচিত। সামনে রণদীপ হুডা। শিল্পী রাজা রবি বর্মার ভূমিকায় আঁকছেন নন্দনার ছবি।

কয়েক বছর আগে ইতালীয় পরিচালক ইতালো স্পিনেলি পুরুলিয়া এসে শ্যুটিং করেছিলেন মহাশ্বেতা দেবীর গল্প অবলম্বনে এক ছবির। সিনেমার নাম ‘গাঙ্গোর’। সেখানে এক মায়ের ভূমিকায় প্রিয়ঙ্কা বসু। সিনেমায় তাঁর সন্তানকে স্তন্যপান করানোর ছবি তোলেন এক চিত্রগ্রাহক। আর তাকে কেন্দ্র করে গল্পটা এগোয়। তবে ‘রংরসিয়া’ বা ‘গাঙ্গোর’কোনও ছবিতেই সম্পূর্ণ সম্মুখ নগ্নতা নেই।

কেউ যদি মৈনাককে প্রশ্ন করেন যে, তিনি ‘ছত্রাক’য়ের বিতর্ককে কবর থেকে খুঁড়ে এনে তার ওপর ভর করে আবার নিজের ছবির সাফল্য খুঁজছেন? “এ প্রশ্নের জবাব ছবিটা দেখলেই পাওয়া যাবে,” বলছেন পরিচালক।

আর ছবি মুক্তির পর যদি পাওলি বা ঋ-য়ের মতো স্বস্তিকাকে বিচার করতে শুরু করে সমাজ? যদি চ্যানেলে চ্যানেলে তাঁর এই রকম একটা দৃশ্য শ্যুট করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়? তা শুনে স্বস্তিকা বলছেন, “কিছু যায় আসে না। যখন কাজটা করতে রাজি হয়েছিলাম আমার উদ্দেশ্য ছিল, এমন ভাবে তা করা যাতে আমার পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবেরা তা দেখে গর্বিত হন। আমার মনে হয় এই ছবিটা প্রশংসিত হওয়া উচিত। মৈনাকের আগের ছবি থেকে একদম আলাদা। যশরাজের ব্যানারে দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দি ‘ব্যোমকেশ’ করছি বলে লোকে ‘টেক ওয়ান’য়ে আমার অভিনয়কে আরও বেশি শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখবে তা নয়। যে দর্শক ভাল কাজ দেখতে আগ্রহী, আমার ধারণা তাঁরা ‘টেক ওয়ান’ পছন্দ করবেন।”

আর ব্যক্তিগত জীবন? এই রকম একটা ছবি করলে কি তাঁর ওপর কোনও প্রভাব পড়তে পারে? “আমি আজকাল ‘কমফর্টেবলি নাম্ব’। লোকে ভাবে যে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক হলে না কি কাজের সুবিধে হয়। আমি বলব ঘণ্টার মাথা! আঁতেল হোক কী অশিক্ষিত, একটা প্রশ্ন শুনতেই হবে ‘কেন তুমি এটা করলে? কেন এমন চরিত্র বারবার সাইন করছ?’ আমি তো মৈনাককে বলেছিলাম ‘টেক ওয়ান’ মুক্তি পাওয়ার সময় কারও সঙ্গে যদি সম্পর্ক থাকে, তুই সিওর থাকিস যে সেটাও কেওড়াতলায় চলে যাবে!”

তা ছবি এখনও মুক্তি পায়নি। তাঁর সম্পর্ক এখন কোন স্টপেজে দাঁড়িয়ে? “আমার ঠিকানাটা গল্ফ গার্ডেন থেকে সরিয়ে রাসবিহারীতে এনেছি। মাঝে মধ্যেই কেওড়াতলায় যাতায়াত হতেই থাকে। কাজ আমি করবই। তাতে যদি ঠিকানা পাল্টে কেওড়াতলা করতে হয়, তা হলেও অসুবিধে নেই। পুরুষেরা পাল্টাবে না। তা-ও বলব না যে ইন্ডাস্ট্রির কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করব না। বরং বলব আমি ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতে রাজি আছি।”

এর পরের স্টপেজে কি কেওড়াতলা? না কি কেওড়াতলা থেকে আবার ইউ-টার্ন করে রাসবিহারীর পথে তিনি? হেসে স্বস্তিকা বলেন, “এখন কোমাতে। জ্ঞান ফিরলে রাসবিহারীতেই ফিরব। না ফিরলে কেওড়াতলা।”


News: http://www.anandabazar.com/

Share: