চাকরি ছেড়ে তরী ভাসিয়েছিলেন প্রায় অচেনা গান দুনিয়ায়। এক রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চে প্রথম তিনি মুখোমুখি হন বাঙালি দর্শক-শ্রোতাদের। তারপর থেকে দুর্নিবার মানেই দুর্নিবার এক টান। মঞ্চ হোক বা টেলিভিশনের পর্দায় অনুষ্ঠান থাকলে চোখ সরে না আট থেকে আশির। এমন তাঁর গলার টান। ডিজিটান দুনিয়াতেও তিনি নক্ষত্র। 'কে কোন দেশে', 'ভালো আছি ভালো থেকো' মতো একের পর এক গান দিয়ে হয়ে উঠেছেন আগামীর মুখ। এবার জিয়ো বাংলার দর্শকদের সামনে জীবনের নানা ওঠা পরার গল্প তুলে ধরলেন দুর্নিবার।
প্র: ছোটবেলা থেকে কি তুমি ভেবেছিলে গায়ক হবে?
দুর্নিবার: না, ছোটবেলায় আমি গান নিয়ে একদমই সিরিয়াস ছিলাম না। তাই জন্যে আমার শিক্ষক ও গুরুজনদের কাছে অনেক বকুনিও খেয়েছি। গান গাওয়াই যে আমার এক মাত্র পেশা হবে সেটা কখনই ভাবিনি আমি। এখনও ব্যাপারটাকে অ্যাডপ্ট করতে পারি না আমি।
প্র: প্যাশনটাকে তাহলে কবে প্রফেশন বানাবে ভাবলে?
দুর্নিবার: প্যাশনটাই প্রফেশন হয়ে যায়। এটা কখনও প্ল্যান করে করা যায় না।
প্র: যখন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছিলে তখন কী কী প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তোমাকে?
দুর্নিবার: হ্যাঁ। অনেকেই জানতে চাইত কেন করছিস? কীভাবে এগোবি? এই রকম অনেক ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কারণ তখন একটা সিকিয়র চাকরি ছিল। তাই সেটাকে ছেড়ে দিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অবাক হয়েছিলেন অনেকেই।
প্র: এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাদের পাশে পেয়েছিলে?
দুর্নিবার: আমার ছোটবেলার কিছু বন্ধুদের আমি পাশে পেয়েছিলাম। এছাড়াও বাবা, মাও পাশে ছিলেন। যদিও প্রথমে বাবা,মাও একটু অবাক হয়েছিলেন। তবে পরে আমাকে সাপোর্ট করেছেন।
প্র: রিয়ালিটি শো শুরু হওয়ার আগে সবার মধ্যেই তোমাকে নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। রিয়ালিটি শো ছাড়ার পর কী চেঞ্জ দেখলে?
দুর্নিবার: অনিশ্চয়তা নিয়েই আমি চাকরি ছেড়ে ছিলাম। তারপর ‘ অ্যাজ আ ফটোগ্রাফার" আমার জার্নি চলছিল। তারপরেই হঠাৎ করে গানবাজনা আমার জীবনে এন্ট্রি পেল। সেই সময় ব্যাপারটা খুব রিলেক্সিং ছিল আমার কাছে। তবে এখনও আমি শিখছি। তাই আমার জার্নিটা শেষ হয়নি। একটা প্রজেক্ট যেটার কাজ চলছে। অমিত দত্ত, মৈনাক, মাম্পী চৌধুরী, চিরদীপ লাহিড়ী এছাড়াও অনেকে যুক্ত রয়েছেন এই প্রজেক্টের সঙ্গে।
প্র: এখন তোমার কী কাজ আসতে চলেছে?
দুর্নিবার: আমার প্রিয় সব শিল্পীদের সঙ্গে একটি কাজ করছি আমি। প্রায় সব ধরনের গান রয়েছে এই অ্যালবামে।
প্র: গান বাজনার পাশাপাশি তুমি খেলাধূলাও করো। তোমাদের একটা টিমও আছে শুনেছি। কী বলবে সেই নিয়ে?
দুর্নিবার: লকডাউনের জন্য আমারা অনেকটা সময় পেয়েছি খেলাধূলা করার। তবে গৌরবের জন্যেই আমরা এই টিম বানাতে পেরেছি। প্রত্যেকদিন সকালবেলায় খেলতে যাই। প্রায় একবছর ধরে এই রুটিন চলেছে।
প্র: প্রথম যখন গাড়ী চালাতে শিখলে তখন প্রথম লংড্রাইভে কোথায় গিয়েছিলে?
দুর্নিবার: আমার প্রথম লংড্রাইভ ছিল গোয়াতে।
প্র: এখনও কি ফটোগ্রাফিটা চলছে?
দুর্নিবার: হ্যাঁ। কারণ আমার যে সব ভিডিয়ো গুলো তৈরি করা হয়েছে। সেগুলি বেশিরভাগই আমার ও রজতের একসাথে তৈরি করা কাজ। এছাড়াও আগে আমি যে ফটোগ্ৰাফির কাজগুলো করেছি, সেসবও সামনে আনার চেষ্টা চলছে। পরে নিজের ছবিও বানানোর ইচ্ছা রয়েছে।
প্র: এত কাজের মধ্যে নিজের হবিগুলোর জন্য সময় পাও?
দুর্নিবার: এগুলোই আমার হবি।
প্র: ফ্যামেলিকে কতটা সময় দিতে পারো?
দুর্নিবার: খুবই কম। ফ্যামিলি টাইম প্রচন্ড কম। পরিবারের সকলেই এই বিষয়টা নিয়ে কমপ্লেন করেন। আসলে নিজের মতোই থাকতে পছন্দ করি। একাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাই। কিন্তু যে কোনও দরকারে আমি সব সময় থাকি। তবে বাড়িতে থেকে তাদের সময় দিতে পারি না।
প্র: আগামী পাঁচ বছর পর কী ভাবছ? নিজেকে কোথায় দেখছ?
দুর্নিবার: খুব কঠিন একটা প্রশ্ন। আর পাঁচ বছর পর আমি নিজেকে মানসিক ভাবে ও শারীরিক ভাবে আরও উন্নত একটা স্টেজে দেখতে চাই। আমার কাজ যেন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এটাই চাই।
প্র: তোমাকে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে শোনা যায়। রবীন্দ্রনাথের কোন গান তোমার নিজেরও পছন্দের?
দুর্নিবার: রবীন্দ্রসঙ্গীত আমার প্রচন্ড পছন্দের। যার কারণ আমার মনে হয় যে কোনও সময় কোনও ভাব প্রকাশের জন্যে যদি চারটে লাইন ভাবতে হয় সেখানে কবিগুরুর লেখা এই লাইনগুলোই সবচেয়ে বেশি গ্ৰহণযোগ্য। খুব সুবিধা হয় আমার অ্যাকসেস করতে। তবে কী ধরনের গান গাইতে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে সেটা আমি নিজেও জানি না।
প্র: এখন তোমার কোন বিষয়টিকে এক্সপ্লোর করার ইচ্ছা?
দুর্নিবার: এখন আমি যোগের সঙ্গে ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিকের একটা সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে নিয়েই আমি খোঁজ চালাচ্ছি।
প্র: এই বিষয়ে কী কী ফ্যাক্ট জানতে পেরেছ তুমি?
দুর্নিবার: আমাদের শরীরের অনেকগুলি চক্র রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সাউন্ড ফ্রিকুয়েন্সি এই চক্রগুলিকে আবার জাগাতে পারে। তাই অডিয়ো প্র্যাকটিসের মাধ্যমে এই চক্রগুলিকে আমরা জাগিয়ে তুলতে পারি। তাহলে আমরা প্যারফেক্ট মানুষ হয়ে যেতে পারি, সাধুদের মতো।
প্র: দুর্নিবার যদি তুমি রাতে প্ল্যান করে সকালেই বেরিয়ে যাও। এরকম মজার কোনও ঘটনা মনে পড়ছে তোমার?
দুর্নিবার: কিছু দিন আগেই আমি একটা লংড্রাইভে গিয়েছিলাম। যেখানে পুরী থেকে দেশের মাঝখান দিয়ে দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু এমার্জেন্সিতে আমি ঝাড়খণ্ড হয়ে দিল্লি পৌঁছেছিলাম। এই ডিসিশনটা খুব তাড়াতাড়ি নিয়েছিলাম।
প্র: একটা সিক্রেট বলো তুমি, টিকিট ছাড়া কখনও ট্রেনে উঠেছ?
দুর্নিবার: এরকম অনেকবার হয়েছে। টিকিট ছাড়া ট্রেনে চড়া। টিকিট কেটে ট্রেন মিস করা। এমন অনেক ঘটনা হয়েছে আমার। আমি যতবার জামশেদপুর গিয়েছি ততবারই ট্রেন মিস করেছি ঘুমের জন্য। তাই এখন গাড়ি চালিয়েই সব জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করি।
প্র: এতদিন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছ, যদি এমনটি অপ্রিয় কথা বলো যা অ্যাজ আ মিউজিসিয়ন তোমার শুনতে খারাপ লাগবে। এই তিনটি কথা কী কী?
দুর্নিবার: প্রথমটা হল ‘দাদা আপনার হ্যান্ডস ক'জন’, দ্বিতীয়টি হল ‘আমার ব্যান্ডে শো করবেন’, তৃতীয়টি হল ‘দাদা একটু পেমেন্ট কমাবেন’।
প্র: এবছর নতুন কী কাজ আসতে চলেছে তোমার?
দুর্নিবার: আমি বিগত কয়েক মাস ধরেই সোশ্যাল মিডিয়াতে সম্পূর্ণ চুপ করে আছি। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া একটি খুব পাওয়ার ফুল মাধ্যম তাই চেষ্টা করছি যারা আমাকে এই প্ল্যার্টফর্মে ফলো করেন তাদের জন্য ভাল কনটেন্ট নিয়ে আসতে।
প্র: পয়লা বৈশাখের প্ল্যান কী?
দুর্নিবার: পয়লা বৈশাখে আমি শহরের বাইরে থাকব। কিন্তু এই বৈশাখ মাসটা এলে নিজেকে আবার ছোট বাচ্চা মনে হয়। কারণ এই বৈশাখ মাসেই আমার জন্মদিন।
প্র: তোমার শ্রোতাদের তুমি কী বলবে?
দুর্নিবার: এই ভিডিয়োটি রিলিজ হওয়ার আগে যদি কোনও কনটেন্ট রিলিজ না হয়, তাহলে আপনার আমার যে কনটেন্টগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজা চেষ্টা করছেন সেগুলি বাদে আগের গানগুলি শুনে ফেলুন। তবে খুব তাড়াতাড়ি নতুন প্রজেক্ট আসছে আমার।
In English

