জয়ের সঙ্গে লোপামুদ্রার নাকি টম অ্যান্ড জেরির সম্পর্ক!

রূপঙ্কর বাগচী না রাঘব চট্টোপাধ্যায়- সেরা গায়ক হিসেবে কাকে বাছবেন জয় সরকার? তাঁর সঙ্গে নাকি লোপামুদ্রার টম অ্যান্ড জেরির সম্পর্ক! 'টলিকথা'র আড্ডায় গানে-গল্পে সিক্রেট শেয়ার করলেন গানের মানুষ জয় সরকার।

প্রঃ তোমার পছন্দ সুরকার কে?

জয় সরকারঃ এটা বলা খুব মুশকিল কারণ আমাদের দেশ ভারতবর্ষ অর্থনৈতিক ভাবে দেখলে আমরা থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি। কিন্তু মিউজিকের দিক থেকে আমরা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি এবং হয়তো আমরা এক নম্বর কারণ এই দেশে ক্লাসিকাল মিউজিক রয়েছে, লোকসংগীত রয়েছে, ক্লাসিক্যাল মিউজিকের আবার নর্থ ইন্ডিয়ান, সাউথ ইন্ডিয়ান আলাদা রয়েছে মানে কর্ণাটকী ক্লাসিক্যাল রয়েছে, হিন্দুস্থান ক্লাসিক্যাল রয়েছে। তারপর এত ধরনের গান বাজনা রয়েছে যে প্রচন্ড রিচ একটা সাংগীতিক পরিবেশ দির্ঘ অনেক বছর ধরে আর যখন থেকে আমার জ্ঞান হয়েছে তখন চারদিকে যেটা শুনে বড় হয়েছি, আমি ‘সেভেন্টিজ’টা পুরো পেয়েছি। তখন কে নেই চারদিকে! প্রথম রাহুল দেব বর্মন। আর ডি বর্মনের গান শুনে জ্ঞান হয়েছে। তারপরে লক্ষ্মীকান্ত প্যারেলাল, শঙ্কর জয়কিষাণ, সলিল চৌধুরী, এদিকে বাংলায় সুধীন দাশগুপ্ত, নচিকেতা ঘোষ- কেউ বাদ নেই। এত বড় বড় সুরকার তবে স্পেসিফিক ভাবে যদি উত্তর দিই তাহলে বলব, সবথেকে ছোটবেলায় যার মিউজিক আমায় নাড়া দিয়েছিল তিনি হচ্ছেন আর ডি বর্মন।

প্রঃ এখন তোমার রিসেন্ট কাজ ‘দত্তা’, ‘নীহারিকা’-র কথা বলি, সেখানে দাড়িয়ে যদি বলা হয় ভীষণ ‘এক্সপেরিমেন্টাল’ কাজ যদি তুমি কর তাহলে সেই ক্ষেত্রে গায়ক বা গায়িকা কাকে চুজ করবে?

জয় সরকারঃ দেখ, আমার ‘গিনিপিগ’ বলব না, খুব খারাপ শোনায় কিন্তু আমার যেকোনও  ‘এক্সপেরিমেন্টাল’কাজের ক্ষেত্রে সবথেকে যাকে পাই সেটা আমার বউকে, লোপা সবসময় চায় একটা অন্যরকম কিছু করতে এবং আমি ওর সঙ্গে যখন কাজ করি, যে ‘এক্সপেরিমেন্টাল’কাজগুলো থেকে আমরা মার খেতে পারি, সেই কাজগুলো কিন্তু লোপার সঙ্গেই করেছি। সেটা ঘরের লোক বলেই সম্ভব হয়েছে।

প্রঃ এখন থেকেই পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। পুজোর গান, অ্যালবাম, ক্যাসেটস এই দিনগুলো বা এই নস্টালজিয়াগুলো এখন কতটা মিস করো?

জয় সরকারঃ প্রচন্ড মিস করি, ক্যাসেটের থেকেও তার আগে রেকর্ড ছিল এবং আমি সেই সেভেন্টিজের কথা বললাম বা তার আগের গান বাজনা আমাদের পর্যন্ত এসেছে। সেটাও শোনার সুযোগ হয়েছে। তখন পুজোর সময় আলাদা করে একটা উন্মাদনা ছিল এবং সেটা আমরাও পেয়েছি যখন কাজ শুরু করেছি সেটা ২০০০ সালের প্রথম দিকে ২০০৫-৬-৭ অবধি তো ছিল। পুজোর গানের জন্যে মানুষ অপেক্ষা করতেন, আমি ভাগ্যবান। একটা কথা বলব, যে পুজোর গানে এখন সেই উন্মাদনা অতটা নেই কা্রণ আমাদের ‘এন্টারটেনমেন্ট’টা কিন্তু এখন ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টা হয়ে গেছে। ইচ্ছে করলেই যখন তখন শুনতে পাই, ফোনে থাকছে, ‘ইউটিউবে’বা অন্য ‘অডিও প্ল্যাটফর্মে’ থাকছে। সেই ‘এক্সক্লিউসিভ’ব্যাপারটা নেই। কিন্তু ভাল মিউজিক গুরুত্ব হারায়নি।

প্রঃ দেশে বিদেশে প্রচুর জায়গায় পারফর্ম করা হয়েছে, প্রচুর গায়ক গায়িকার সঙ্গে কাজ করা হয়েছে, কার সঙ্গে কোন মজার অভিজ্ঞতা ঘটেছে যেটা এখন মনে পড়লেই হাসি পেয়ে যায়?

জয় সরকারঃ দেখো, অনুষ্ঠানের বিষয়টা আলাদা, লোপার সঙ্গে সবথেকে বেশি অনুষ্ঠান করেছি এবং পৃথিবীর নানা জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু আমি যেমন শ্রীকান্তদার সঙ্গে রেকর্ডিং করেছি। শ্রীকান্তদা আমার সঙ্গে ‘ম্যাক্সিমাম’গান গেয়েছেন এবং শ্রীকান্তদার রেকর্ডিং মানেই প্রচুর আনন্দ হত।

প্রঃ এই মুহূর্তে যারা গান শোনেন তারা আবার দেখতেও চান, মিউজিক ভিডিয়ো হিসেবে। গান তো শোনার জিনিস দেখার জিনিস কি? এই নিয়ে তুমি কী বলবে?

জয় সরকারঃ আমি একদমই মনে করি না যে গান দেখার জিনিস। কারণ সেটা সিনেমার গান। সিনেমার প্রয়োজনে গান তৈরি হচ্ছে, দৃশ্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সিনেমার বাইরের যেই গান সেটা কিন্তু এক এক জনের পারস্পেক্টিভ  এক এক রকম। আমরা এক এক জনের গানে এক এক রকম ছবি দেখে।

প্রঃ তুমি আর লোপাদি নাকি ‘টম অ্যান্ড জেরি’। কাজ যখন করো তখন কতটা খুনসুটি হয় আর কতটা কাজ হয়?

জয় সরকারঃ খুনসুটির থেকে ঝগড়া বেশি হয়। কাজের সময় হয়। কাজের ভাল খারাপ নিয়েই হয়। বেশিটা কাজ নিয়েই হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে আমরা ‘রিয়েলাইজ’ করি যে আমরা কেউ কারও খারাপ চাইনা। চাই কাজটা আরও ভাল হোক। বিয়ের ২২ বছর পর খুনসুটি বলে কিছু আর থাকেনা। কিন্তু যেটা হয় আমরা খুব এনজয় করি এবং কম্ফর্টেবল ফিল করি।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...