RRR ছবির আল্লুরি রামারাজুর আত্মত্যাগের কথা প্রথম সামনে এনেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক অজানা ইতিহাসকে 'আর আর আর' ছবিতে দেখিয়েছেন পরিচালক রাজামৌলী। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, যে এই অজানা গল্পের নায়কদের কথা প্রথমবার উত্তর ভারতীয়দের কাছে পৌঁছে দিয়ে ছিলেন এক বাঙালিই। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯২৪ সাল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রথমবার দক্ষিণ ভারতের বিশাখাপত্তনমে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি আল্লুরি রামারাজুর আত্মত্যাগের কথা শুনেছিলেন। তারপর নেতাজি উত্তর ভারতে এসে আল্লুরি রামারাজুর বীরত্বের গল্প জনমানসে আনেন।

গল্পের নায়ক আল্লুরি রামারাজুর সঙ্গে অনেক মিলও রয়েছে নেতাজির। যে কারণে তাকে দাক্ষিণাত্যের নেতাজি বলা হয়। নেতাজি থেকে মাত্র কয়েক মাসের ছোট ছিলেন রামারাজু। অন্ধ্রোপ্রদেশ রাজ্যের মগালু গ্ৰামে জন্মগ্ৰহণ। রামারাজুর নিজের জীবনের অনেকটা সময়টা কাটিয়েছে তার ছোটবেলার প্রিয় বন্ধু ও প্রেমিকা সীতার সঙ্গে। তার জন্য নিজের নাম পরিবর্তন করে সীতা রামারাজু রেখেছিলেন তিনি।

রাজনীতির পাঠচর্চা করতে গিয়ে আকৃষ্ট হন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি। আদিবাসীদের নিয়ে তিনি একটি সৈন্যদলও তৈরি করেছিলেন। ১৯২২ সালে তাঁর নেতৃত্বে এই সৈন্যদল রাজাভমাঙ্গি পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ করে। সেই পুলিশ চৌকির অস্ত্রও দখল নেয়। এই যুদ্ধে তাদের অস্ত্র ছিল শুধু মাত্র তীরধনুক আর লাঠি। এমন আরও দুটি পুলিশ স্টেশনের দখল নিয়েছিলেন তারা। ১৯২৪ সালে প্রথমবার ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হতে হয় তাকে। এভাবেই টানা ২ বছর ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোর পর হার মানতে হয়ে এই বীর যোদ্ধাকে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু বা অন্তর্ধান নিয়ে যেমন বহু মানুষের ভিন্ন ধারণা রয়েছে। সেই রকম রামারাজু মৃত্যু নিয়েও ভিন্ন মত পোষণ করেন বহু মানুষ। অনেকেই মনে করেন রামারাজু ব্রিটিশদের গুলিতে প্রাণ হারাননি, নেতাজির মতোই তিনিও সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন।

আজ শুধুমাত্র দেশেই নয়, সারা বিশ্বে ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে 'আর আর আর'। সম্প্রতি 'গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড' জিতেছে ছবির 'নাটু নাটু' গানটা। কিন্তু 'আর আর আর' ছবি নিয়ে সকলের উৎসাহ থাকা সত্ত্বেও এতদিন দেশের বহু মানুষ জানতেন না 'আর আর আর' ছবির গল্পের নৈপথ্যে রয়েছেন নেতাজিও। স্বয়ং ছবির পরিচালক রাজামৌলী নিজেই এই কথা বলেছেন। রাজামৌলীর এই কথা শুনে খুশি হয়েছেন বসু পরিবারের সদস্য নেতাজীর দৌহিত্র চন্দ্রকুমার বসু। ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া এই কাহিনীকে সকলের কাছে বলার জন্য আর দেশের দুই স্বাধীনতা সংগ্রামীকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি পরিচালক রাজামৌলীর কাছে আবেদন করেছেন কলকাতায় বসু পরিবারের সদস্যদের জন্য একটা স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করার।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...