পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পবিত্র বাইশ সিঁড়ির মাহাত্ম্য

শ্রীক্ষেত্র ভক্তের অন্তরের টান। কথায় বলে ‘প্রভু জগন্নাথ না টানালে শ্রীক্ষেত্র দর্শন’ হয় না। শ্রীমন্দিরে রত্ন বেদিকার ওপর অবস্থান করেন দারুদেব। সঙ্গে বলভদ্র ও সুভদ্রা। ষড় রিপুর গ্রাস থেকে মুক্ত হয়ে মন শুদ্ধি ঘটলে তবেই তাঁর দর্শন সম্ভব। কিন্তু সাধারণ গৃহী মানুষের পক্ষে সে বড় সহজ কাজ নয়। মোহপাশ আর জাগতিক আচারের শৃঙ্খলে আবদ্ধ তারা। কিন্তু প্রভু জগন্নাথ যাবতীয় জাগতিক প্রতিবন্ধকতা, ষড় রিপুকে জয় করার পথ দেখান। তিনিই ভক্তকে দিশা দেখান কোন পথে তাঁর দর্শন সম্ভব।

পুরীর মন্দিরের সিংহদ্বার দিয়ে প্রবেশ করার পর বাইশটি সিঁড়ি পেরিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে। এই বাইশটি সিঁড়িকে বলে বাইশি পহুচ।

জগন্নাথ মন্দিরের বাইশটি এই বাইশটি সিঁড়ি যোগদর্শনের বাইশটি তত্ত্ব। ক্রমান্বয়ে যার বিন্যাস। বাইশ সিঁড়ির প্রথম পাঁচটি সিঁড়ি চক্ষু, কর্ণ , নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক- পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের প্রতীক। পরবর্তী পাঁচটি সিঁড়ি রূপ, রস, গন্ধ, শব্দ ও স্পর্শ পাঁচ প্রাণের প্রতীক। পরের পাঁচটি সিঁড়ি ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোমের প্রতীক। শেষ দুটি সিঁড়ি মানুষের বুদ্ধি ও অহংকারের প্রতীক।

আর একটি তত্ত্ব বলে এই জগন্নাথ মন্দিরের এই বাইশ ধাপ আসলে বাইশ পাপ। বাইশ সিঁড়ি পার করলে লঙ্ঘিত হয় সেই পাপ। 

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...