জেনে নিন কোন রিবন কোন ক্যানসারের প্রতীক

ক্যানসার মানে মারণ রোগ। যে রোগ একবার স্পর্শ করলে রাতারাতি বদলে যায় জীবন। ক্যানসার নিয়ে আজও ভারতে সচেতনতার পরিবর্তে ভয়-ই বেশি। গোটা বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিবছর এদেশেও বাড়ছে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসার গবেষণার শাখা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার বা আইএআরসি-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ভারতে মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে স্তন ক্যানসার। এর পরেই রয়েছে সার্ভিক্যাল ক্যানসার। অন্যদিকে পুরুষদের ক্যানসারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঠোঁট, মুখের ক্যানসার। তার পরেই রয়েছে ফুসফুসের ক্যানসার।

২০২২ সালে ভারতে ১৪ লাখের বেশি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। গোটা বিশ্বে নতুন ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি। ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৭ লাখ।

ক্যানসার নিয়ে ভয় কাটিয়ে চাই জন সচেতনতা। সেই লক্ষেই, প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব ক্যানসার দিবস। ২০০০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ব ক্যানসার দিবস পালন শুরু হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসে World Summit Against Cancer-এর মঞ্চ থেকে এটা শুরু হয়।

সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এবং ভিন্ন ধরনের ক্যানসার চিহ্নিতকরণে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রঙের রিবন। মোট ৪৩ রঙের রিবন রয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে মোট ২৭ টি মাস পালন করা হয়।

can- rib

কমলা রঙের রিবন কিডনির ক্যানসার ও লিউকোমিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে ব্যবহার করা হয়। গোলাপি রিবন স্তন ক্যানসার বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। ফুসফুসের ক্যানসার বোঝাতে সাদা, মুক্ত রঙের, লিভার ক্যানসারের জন্য গাঢ় সবুজ রিবন, হালকা সবুজের ফিতে লিম্ফোমা ক্যানসার বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

হেড টু নেক মানে মাথা থেকে গলা বা ঘাড় পর্যন্ত যে অঙ্গগুলি আছে সেই অঙ্গে ক্যানসার বোঝাতে সাদা এবং ব্যার্গেন্ডি রঙের রিবন ব্যবহার করা হয়। এপ্রিল মাসটি হেড টু নেক ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়।

হালকা নীল রিবন প্রোস্টেট ক্যানসার, সোনালী রিবন শিশুদের ক্যানসার, ধূসর রিবন মস্তিষ্কের ক্যানসার, বেগুনি রিবন অগ্ন্যাশয় ক্যানসার, পিচ রং জরায়ু বা এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার, সবুজ-নীল টিল রঙ রিবন ওভারিয়ান ক্যানসার, নীল, হলুদ ও বেগুনি - মূত্রথলির ক্যানসার, নীল, গোলাপী ও টিল - থাইরয়েড ক্যানসার, পেরিউইঙ্কিল নীল, পাকস্থলীর ক্যানসার, কমলা ও হলুদের মাঝামাঝি অ্যাম্বার অ্যাপেনডিক্স ক্যানসার বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সাদা ও টিল জরায়ুমুখ ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ত্বকের ক্যানসারে কালো রিবন ব্যবহৃত হয়। সাদা-কালো জেব্রা প্রিন্ট রিবন কার্সিনয়েড কার্সিনয়েড ক্যানসারের চিহ্ন। ল্যাভেন্ডার রিবন ক্যানসার আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতি ও তাঁদের যুদ্ধে পাশে থাকার কথা বোঝায়।

ক্যানসার এমন ভয়াবহ বৃদ্ধি কেন? সে প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য জানিয়েছে, বেশিরভাগ দেশেই স্বাস্থ্য খাতে ক্যানসারের জন্য বরাদ্দ কম। পাশাপাশি প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা পেইন রিলেটেড সার্ভিসের জন্যও বরাদ্দের পরিমাণ কম। এছাড়াও স্থূলতার সমস্যা, তামাক সেবন এবং মদ্যপানের হার দিন দিন বাড়ছে, তাই ক্যানসারের হারও বাড়ছে। ক্যানসার প্রতিরোধে তাই চাই যথাযথ জনসচেতনতা ও  প্রচার।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...