এক অমর প্রাণীর কথা

এই মহাবিশ্বের কোলে একবার জন্মগ্রহণ করলে তাকে সেই কোল ছেড়ে একদিন বিলীন হতেই হবে মহাকাশে। সকলের ইচ্ছে হয় অমর হয়ে এই জগতে বিরাজ করতে। মরতে কার ভালো লাগে বলুন? কারোরই এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছে থাকে না। পৃথিবী ছেড়ে যেতে হলে যাওয়ার সময়  নিয়ে যাওয়া যায়না সারাজীবনের কষ্টে জমানো টাকাপয়সা বা সম্পর্কের খাতিরে গচ্ছিত রাখা ভালোবাসা। কিন্তু পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যেতে চায় না অনেকেই, অমর হয়ে থেকে যেতে চায়।

   মানুষের শত আকাঙ্ক্ষা সত্ত্বেও অমর হওয়া সম্ভব হয়নি কারোর পক্ষে। কিন্তু মানুষের জায়গায় অমর হয়ে বিজ্ঞানজগতে সাড়া ফেলে দিয়েছে এক ছোট্ট প্রাণী। ভুমধ্যসাগর এবং জাপানের সমুদ্রের অতল গভীরে বসবাসকারী একপ্রকার জীব কিন্তু অমরত্বের বর পেয়েছে। জেলিফিশ, সমুদ্রের অনেক নিচে থাকা এই প্রাণীটির এক অন্য প্রজাতি টারিটোপোসিস ডোরনি (Turritopsis dohrnii) কে বিজ্ঞানজগতে বলা হয় ব্যাকওয়ার্ড এজিং জেলিফিশ। এই প্রজাতির জেলিফিশ 'অমর জেলিফিশ' নাম পরিচিত।

  বলা হয়, বার্ধক্য লুকিয়ে রেখে তারা অমরত্বের আশীর্বাদ পেয়েছে নিজেদের জন্য। মৃত্যুর কোনো আশংকা থাকলে এরা বয়সকে পিছনের দিকে পাঠাতে শুরু করে। বিজ্ঞানীদের দাবি, শরীরের কোনো জায়গায় চোট লাগলে এরা পলিপ দশায় চলে যায়। শরীরের চারপাশে মিউকাস পর্দার এক আবরণ তৈরী করে গুটি বেঁধে ঢুকে যায় সেই পলিপের মধ্যে। এইভাবে বয়সকে বার্ধক্যে পৌঁছানো থেকে নিজেকের শরীরকে আটকে রাখে। এই পলিপ দশায় থাকাকালীন নিজের দেহের সমস্ত কোষকে নতুনভাবে তৈরী করে এই প্রাণী। এর ফলে বয়স কমে যায় প্রাণীটির। এইভাবেই ধীরে ধীরে একদিকে যেমন বয়স পিছোতে থাকে তেমন মৃত্যুর সময়ও পিছোতে থাকে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ কোনো বড় মাছ খেয়ে ফেললে বা কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে তবেই প্রাণ যায় এই প্রজাতির জেলিফিশের। বার্ধক্যের কারণে কখনোই মৃত্যু হয়না এই প্রাণীর। তারা জানিয়েছেন, এই কোষ রূপান্তরকরণের ক্ষমতা একমাত্র পূর্ণবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত আসেনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বংশবিস্তারে সক্ষম জেলিফিশগুলিই একমাত্র অমর।

 

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...