৩৫০ বছরের পুরনো প্রাচীন মন্দির উদ্ধার হলো বাংলাদেশের কোন জায়গায়?

ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন হিন্দু মন্দির। কিছু মন্দিরের বয়স হাজার বছর আবার কিছু মন্দিরের বয়স ১৫০ বছর। এমনি এক প্রাচীন মন্দির রয়েছে বাংলাদেশের সুন্দরবনে। প্রায় ৩৫০ বছর পুরনো এই মন্দিরটি অবস্থিত ওপার বাংলার সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কালাবগী ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন ১৬ নম্বর কম্পার্টমেন্টের শেখের টেক এলাকায়। খুলনা সদর থেকে স্থানটির দূরত্ব মাত্র ৮৫ কিলোমিটার। কিন্তু প্রাচীন এই মন্দিরটি বহুকাল ভগ্নদশায়ে পরেছিল এই এলাকায়। ২০২২ সালে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা ঐ অঞ্চলটি পরিদর্শনের জন্য একটি দল পাঠিয়ে ছিল। তারা ঐ মন্দিরের একটি নকশা তৈরি করেছেন। যেখানে ঐ মন্দিরটির ভেতরের অংশ ৩২৫ সেন্টিমিটার বর্গাকার, বাইরের অংশ ৬৫৫ সেন্টিমিটার বর্গাকার ও দেয়ালের পুরত্ব ১৬৫ সেন্টিমিটার আর মন্দিরের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে দুটি প্রবেশ পথ রয়েছে। দুটি প্রবেশ পথই ৯৭ সেন্টিমিটার চওড়া।

মন্দিরটি ৩৫০ বছর পুরনো ধরা হলেও কবে নির্মাণ করা হয়েছিল সেই নিয়ে সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ১৯১৪ সালে সতীশ চন্দ্র মিত্রের লেখা 'যশোর-খুলনার ইতিহাস' বইটাতে এই মন্দিরের কথা উল্লেখ রয়েছে। মোঘল আমলের স্থাপত্য শৈলীর সঙ্গে মন্দিরের স্থাপত্যের মিল থাকায় সতীশ চন্দ্র মিত্র লিখেছিলেন যে, মোঘল আমলে রাজা প্রতাপাদিত্য নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও এই মন্দিরের উল্লেখ ছিল আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার লেখা 'বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ' বইতে। যদিও সেই বইতে তিনি এই মন্দিরকে শেখের বাড়ি বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রাচীন এই মন্দিরটি নির্মাণ করার জন্য সেই সময় পাতলা ইট, চুন আর বালির ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু বহুদিন মন্দিরে মানুষের প্রবেশ ছিল সেই জন্য মন্দিরটির চারিদিকে গাছপালায় ভর্তি হয় গিয়েছে। তবে আজ থেকে তিনশো চারশো বছর আগেও যে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মানুষের বসবাস ছিল এই মন্দির দেখে তার প্রমাণ যায়।

 

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...