ইতিহাস গড়লেন ভাবিনা প্যাটেল

ইতিহাস গড়লেন। শুধু একার নয়, বহু মানুষের মুখের হাসি আনলেন। টোকিও প্যারালিম্পিকে মেয়েদের টেবিল টেনিসে রূপো জিতলেন ভাবিনা। গুজরাটের ভাবিনা হাসমুখভাই প্যাটেল
প্যারালিম্পিক্সের শুরু থেকেই ভাবিনার সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল দেশের ক্রীড়ামহল। তাঁর পারফরম্যান্সও সেই কথাই বলছে।

টোকিও প্যারালিম্পিক্সে ভাবিনা প্যাটেলের এই সাফল্য কিন্তু হঠাৎ নয়। ২৮টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্যারা-টিটি-তে ৫ সোনা, ১৩ রূপো, ৮ ব্রোঞ্জ এসেছে দেশে তাঁর সূত্রেই। ভাবিনা প্যাটেলের সাফল্যের চাবিকাঠিটি তাঁর আত্মবিশ্বাস। ভাবিনার কোচ লালন দোশি।

হুইলচেয়ারবন্দী জীবন। কিন্তু জীবন মানে তাঁর কাছে জয়। শরীরের নিম্নাংশ কার্যক্ষম নয়। কিন্তু তাতে কী! সেই অক্ষমতাকে প্রতিবার উড়িয়ে দেন টেবিল টেনিসের কোটে। যতবার প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেন সার্ভিসে ঠিক ততবার হারান ‘অক্ষমতা’ নামের শব্দটিকে। তা শারীরিক হোক বা আর্থিক টানাপোড়ন।

গুজরাটের মেহসানায় বাড়ি। খেলার ময়দানে উঠে আসার লড়াইটা শুরু হয়েছিল সেখান থেকেই। ১৯৮৬-র ২৬ নভেম্বর জন্ম ভাবিনার। খুব সাধারণ পরিবার। বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে খেলার জগতে আসবেন। খেলাকে কেরিয়ার হিসেবে নেবেন, সে বড় সহজ নয়। ভাবিনার কাছেও সাফল্য এসেছে অনেক লড়াইয়ের ফল হিসেবে। ২০০৪ সালে নিজের গ্রাম থেকে আমেদাবাদে আসেন।

গ্রামে থাকাকালীন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। সেই সময় ব্লাইন্ড পিপলস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা ভাবিনার সাহায্যে এগিয়ে আসে। তারপর কিছুটা অনুকূল হয় পরিস্থিতি। ভাবিনা বর্তমানে এমপ্লোইজ স্টেট ইনসিউরেন্স কর্পোরেশনে কর্মরতা।
২০১১-তে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পিটিটি টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে ইন্ডিভিজ্যুয়াল ক্যাটাগরিতে রূপো জিতেছিলেন। এই সাফল্যের পরেই টিটিতে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্যারা-অ্যাথলিটের মর্যাদা পান।

২০১৩-তে বেজিং-এ অনুষ্ঠিত এশিয়ান প্যারা টেবিল-টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে সিঙ্গেলস-এ রুপো এনেছিলেন।
ভাবিনার কথায়, একজন ক্রীড়াবিদের আসল জোর তার মনে। শারীরিক জোর সেখান থেকেই আসে।

ময়দানে জয়ের আগে নিজের মনটা জিততে শেখাতে হবে। তবেই তৈরি হবে জয়ের পরিস্থিতি। শুধু একজন প্যারা-অ্যাথলিট বলে নয়, ভাবিনা মনে করেন সকলের জন্যই এই কথা সত্যি।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...