ছাদ বা ব্যালকনি বাগানে টেকোমা বা চন্দ্রপ্রভা বা হরগৌরী গাছে প্রচুর ফুল পাওয়ার বিশেষ উপায়

টেকোমা অসাধারণ সুন্দর একটি ফুল। হলুদ, গোলাপি, কমলা, লাল, সাদা, বেগুনি—হরেক রকম রঙের ভ্যারাইটি রয়েছে তার। তবে এদের মধ্যে হলুদ রঙের ফুলটির পাতা অন্যদের চেয়ে আলাদা, ফুলের গড়নেও সামান্য ফারাক রয়েছে। তবে প্রত্যেকেই থোকায় রাশি রাশি ফুল ফুটিয়ে বাগান একেবারে আলো করে রাখে।

টেকোমাকে এই বাংলায় নানান জনে নানান নামে ডাকেন ও ভালোবাসেন। কেউ বলেন ‘টিকোমা’, কেউ বা বলেন ‘চন্দ্রপ্রভা’, আবার কেউ বলেন ‘হরগৌরী’। ফুলের আকার যেহেতু কিছুটা ঘণ্টার মতো দেখতে, সেহেতু অনেকেই তাকে ‘ঘন্টাফুল’ বলেও ডেকে থাকেন। শখের বাগানিরা এই ফুল যেমন অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য ভালোবাসেন, তেমনি ভালোবাসেন অল্প যত্নেই এই গাছ থেকে প্রচুর ফুল পাওয়া যায় বলেও।

শীতের সময়টুকু এই গাছ বিশ্রাম নেয়। এই সময় কোন কোন ভ্যারাইটি সামান্য ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দু’একটা ফুল দিলেও অধিকাংশ ভ্যারাইটিই কিন্তু ফুল দেয় না। যাই হোক, এই গাছ মাটিতে করলে প্রায় কোন পরিচর্যা ছাড়াই প্রচুর ফুল দেয়, উচ্চতাতেও বিশাল আকার ধারণ করে। অবশ্য ছাদ বা ব্যালকনিবাগানের টবেও এই গাছ খুব সুন্দরভাবে করা যায়, উচ্চতাও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে টবের এই গাছ থেকে প্রচুর ফুল আদায় করে নিতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয় এবং সহজ অথচ ‘বিশেষ’ কিছু পরিচর্যা চালিয়ে যেতে হয়। এবার সেই ‘বিশেষ পরিচর্যা’গুলো কী এবং সেগুলো কীভাবেই বা করতে হয়—সেগুলোই পয়েন্ট ধরে ধরে আলোচনা করছিঃ

প্রথমবার গাছ বসানোর জন্য কেমন চারা আনবেন?

নার্সারি বা পাড়ার গাছওয়ালার কাছ থেকে যখন চারা নেবেন, তখন কয়েকটা ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেনঃ

গাছটি যেন বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও সতেজ হয়। সেটি যেন এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতার গাছ হয়। গাছে যেন কমপক্ষে তিন বা চারটি ডাল থাকে। আর দেখবেন গাছে কোন কীট-পোকা আক্রমণ করেছে কি না; কোন রোগ আক্রমণ করেছে কি না অর্থাৎ পুরোপুরি সুস্থ একটি গাছ দেখেশুনে তবেই কিনবেন। স্থানবিশেষে তিরিশ থেকে পঞ্চাশ টাকার মধ্যে এ-গাছের চারা পেয়ে যাবেন।

উপযুক্ত মাটি কীভাবে তৈরি করবেন?

টেকোমা হালকা মাটি পছন্দ করে। শেকড়ের কাছাকাছি মাটির হালকা ভেজা ভেজা ভাবও তার খুব পছন্দের। কিন্তু গোড়ায় জল জমা সে একদম পছন্দ করে না। কোকোপিটযুক্ত জৈবসারসমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি তাই তার জন্য একেবারে আদর্শ। কোকোপিট মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি মাটিকে আলগা রাখতেও খুব সাহায্য করে। এই ধরণের মাটিতে টেকোমা শেকড় চালাতে খুব পছন্দ করে। টেকোমার পছন্দের এই মাটি তৈরি করতে দেড় ভাগ এঁটেল মাটি, এক ভাগ সাদা মিহি বালি, এক ভাগ এক বছরের পুরনো গোবর সার বা পাতাপচা সার বা ভার্মি কম্পোস্ট এবং বাকি আধ-ভাগ কোকোপিট একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নেবেন (বাড়িতে পুরনো দোআঁশ মাটি থাকলে তার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ বালি এবং আগের বলা পরিমাণে কোকোপিট ও জৈবসার মিশিয়ে নিলেই হবে)। তারপর এর সঙ্গে প্রতি টবের হিসেবে দেড় চা-চামচ সাফ ফাঙ্গিসাইড, এক চামচ নিমখোল, এক চামচ হাড়গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিলেই টেকোমার জন্য এক্কেবারে আদর্শ মাটি তৈরি হয়ে যাবে। এই মাটি আপনি নতুন চারা বসানোর জন্য এবং রিপটিং-এর জন্য ব্যবহার করবেন।

কেমন টবে, কীভাবে চারা বসাবেন?

মার্চ-এপ্রিল টেকোমার চারা বসানোর উপযুক্ত সময়। কারণ এর ফুলের মরসুম শুরু হয় এই সময় থেকেই, চলে জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগে অব্দি। এই সময় চারা বসালে কুড়ি-পঁচিশ দিনের মধ্যেই গাছভর্তি ফুল পাওয়া যায়। এই গাছ শেকড় ছড়ায় খুব দ্রুত এবং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী গাছ; তাই খুব ছোট টবে একে বসালে অল্পদিনেই শেকড় মাটির ওপরে উঠে এসে রিপটিং-এর বার্তা দেবে এবং বাড়-বৃদ্ধিও সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দেবে। এই জন্য প্রথমেই একে দশ ইঞ্চি টবে বসানো ভালো। ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক রেখে টবের আশিভাগ আদর্শ মাটি দিয়ে ভর্তি করে ঠিক মধ্যিখানে গর্ত বানিয়ে তাতে হাফ চামচ এপসম সল্ট সম্ভব হলে ছড়িয়ে দেবেন (সম্ভব না-হলে দরকার নেই), তার ওপর চারাটি বসিয়ে চারপাশ ভালো করে চেপে মাটি দিয়ে দেবেন। তারপর টবের কানাভর্তি করে জল দিয়ে চার-পাঁচ দিন সম্পূর্ণ ছায়ায় টবশুদ্ধ গাছটি রেখে, তারপর রোদে দেবেন।

কেমন রোদে রাখবেন? জল ও অন্যান্য খাবার কী পরিমাণ দেবেন?

রোদঃ টিকোমা রোদ খুব ভালোবাসে। ডিরেক্ট সানলাইট ছয় থেকে সাত ঘন্টা পেলে এই গাছ চুটিয়ে রাশি রাশি ফুল দিয়ে থাকে। ডিরেক্ট সানলাইট এরপর যত কমতে থাকে, এর ফুলের পরিমাণও তত কমতে থাকে। ঘন্টাখানেকের বেশি যেখানে রোদ আসে না, সেখানে এই গাছ করবেন না, একেবারেই ফুল পাবেন না। জল প্রয়োজনমতো দিলে প্রখর গ্রীষ্মের সারাদিনের রোদ গায়ে মেখেও এই গাছ এক্কবারে সবুজ, সতেজ, খুশিতে ঝলমলে হয়ে থাকে।   

জলঃ টবের ওপরের মাটি প্রায় শুকিয়ে এসেছে—এমন অবস্থা দেখলেই গাছে জল দেবেন, নতুবা নয়। প্রখর গ্রীষ্মে সকালে জল দিলে যদি দেখেন বিকেলে শুকিয়ে যাচ্ছে, তাহলে এই অবস্থায় বিকেলেও জল দেবেন। ছাদবাগানের গাছ যদি ওই গরমে দিনের পুরো রোদটা সরাসরি গায়ে পায়, তাহলে বিকেলে একবার স্নান করিয়ে দেবেন। কুঁড়ি এলে খেয়াল রাখবেন, মাটি যেন কখনোই খটখটে হয়ে শুকিয়ে না-পড়ে; তাহলে কিন্তু গাছ শকড হয়ে কুঁড়ি ঝরিয়ে দিতে পারে। টবের ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক থাকলে, গাছের গোড়ার বাড়তি জল সঙ্গে সঙ্গে যদি নেমে যায়; তাহলে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতেও এই গাছের কোন ক্ষতি হয় না। এই গাছ কষ্টসহিষ্ণু, উপযুক্ত ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রোদ সে যেমন সহ্য করতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত বৃষ্টিও আনন্দের সঙ্গে সয়ে নেওয়ার সদগুণ এই গাছের আছে।

অন্যান্য খাবারঃ টেকোমা যেমন বেশি ফুল দেয়, তেমনি খায়ও বেশি। পর্যাপ্ত ফুল দিতে প্রচুর এনার্জির প্রয়োজন হয়, সেটা টবের গাছে যথেষ্ট খাবার না দিলে পূরণ হয় না। জৈব ও রাসায়নিক দু’রকম খাবারই তাকে নিয়ম মেনে দিয়ে যাবেন, দেখবেন সারা মরসুমে ফুলের অভাব হবে না, গাছের স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবতে হবে না। কীভাবে এই খাবার দেবেন সেগুলো এবার পয়েন্ট ধরে ধরে লিখে দিচ্ছিঃ

ক. সাতদিন পর পর সরষের খোল কমপক্ষে তিনদিন অথবা বাদাম খোল একদিন পচিয়ে দেবেন। কীভাবে দেবেন? হাফ লিটার জলে এক মুঠো খোল দিয়ে পচাবেন। তারপর সেই পচানো খোলজলের সঙ্গে আরও তিন লিটার জল মিশিয়ে সেই জল যতটা প্রয়োজন গাছের টবে দেবেন।

খ. পনেরো দিন অন্তর যত ইঞ্চি টব ততগুলো দানা ডিএপি এবং এক চা-চামচ লাল পটাশ একসঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়া থেকে দূরে ছড়িয়ে দিয়ে টবের মাটি খুঁচিয়ে দেবেন। এর পরিবর্তে টব প্রতি দেড় চা-চামচ উনিশঃউনিশঃউনিশ বা কুড়িঃকুড়িঃকুড়ি এনপিকে সার একইভাবে পনেরো দিন অন্তর দিয়ে যাবেন। অথবা ডিএপি এবং এনপিকে অলটার করেও দিয়ে যেতে পারেন।

গ. পাঁচশো গ্রামের মতো সবজির খোসা এক লিটার জলে পনেরো দিন পচিয়ে ছাঁকনি দিয়ে তরল অংশটা ভালো করে ছেঁকে নেবেন। তারপর ঐ তরলের সঙ্গে আরও ছ’লিটার জল মিশিয়ে গাছে দেবেন। এই তরল সার পনেরো দিন অন্তর যদি দিতে পারেন তবে ‘খ’ পয়েন্টের রাসায়নিক সার মাসে একবার দিলেই হবে।

ঘ. মাসে একবার টবের মাটিতে এক মুঠো ভার্মি কম্পোস্ট, এক চা-চামচ এপসম সল্ট বা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ছড়িয়ে দেবেন। এতে গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে গাছ ফুলও দেবে বেশি।

ঙ. মাসে একবার দুই থেকে তিন গ্রাম অণুখাদ্য এক লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করে দেবেন।   

প্রচুর ফুল পেতে অত্যন্ত আবশ্যিক পরিচর্যা কোনটি?

পর্যাপ্ত খাবার দেবার পাশাপাশি মরসুমজুড়ে প্রচুর ফুল পেতে আপনাকে কয়েকটি পরিচর্যা অবশ্যই নিয়ম করে করতে হবে; সেগুলো পয়েন্ট করে লিখে দিচ্ছিঃ

ক. টেকোমায় প্রচুর ফুল পেতে আপনাকে সচেতনভাবে নতুন ডালের সংখ্যা বাড়িয়ে যেতে হবে। কারণ, যত ডাল, তত কুঁড়ি, তত ফুল। এ-গাছের একটি ডালের সমস্ত কুঁড়ি ফুটে যাবার পর, সেই ডাল সামান্য ক’দিনের জন্য বিশ্রাম নেয়। এই বিশ্রামের অবস্থায় ডালের মাথাটি ছেঁটে কাটা জায়গায় ফাঙ্গিসাইডের পেস্ট লাগিয়ে দিতে হবে। ক’দিনের মধ্যেই দেখবেন কাটা ডালে একাধিক নতুন ডালের সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন ডালে তার ক’দিনের মধ্যেই ফুল এসে যাবে। এভাবে একদিকে গাছকে যেমন সুন্দর শেপ দিয়ে ঝাঁকড়া করা যাবে, গাছের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, তেমনই ডালের বিশ্রামের সময় কমিয়ে গাছের কাছ থেকে বেশি বেশি ফুল আদায় করে নেওয়া যাবে।

খ. মাটিতে আগাছা একেবারেই হতে দেবেন না। সপ্তাহে একবার মাটি খুঁচিয়ে দেবেন।

গ. এই গাছ নাইট্রোজেন খুব ভালোবাসে। অনেক পরিচর্যার পরেও গাছের বৃদ্ধি মনোমত না-হলে বা আশানুরূপ ফুল দিলে যতদিন না অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে, ততদিন কুড়ি-পঁচিশ দিন অন্তর এক চা-চামচ ইউরিয়ার সঙ্গে আধ চা-চামচ লাল পটাশ মিশিয়ে ভেজা মাটিতে গাছের গোড়া থেকে দূরে ছড়িয়ে যাবেন।   

ঘ. পর্যাপ্ত খাবার দেওয়ার পাশাপাশি মাসে একবার মিরাকুলান স্প্রে করবেন। খাবার দেওয়ার তিনদিন পর এক লিটার জলে পঁচিশ ফোঁটা মিরাকুলান মিশিয়ে ভালো করে গাছে স্প্রে করে দেবেন। এতে গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, গাছ সতেজ-সবুজ থাকবে, কুঁড়ির সংখ্যাও বাড়বে।  

গাছকে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর উপায় কী?

টেকোমায় জাব ও মিলিবাগ বেশি দেখা যায়। এদের আক্রমণে এক লিটার জলে তিন এমএল শ্যাম্পু অথবা আধ চা-চামচ যে-কোন কোম্পানির গুঁড়ো সাবান অথবা ইমিডাক্লোরোপিড-জাতীয় কীটনাশক তিন গ্রাম ভালো করে মিশিয়ে পর পর দু’দিন মেঘমুক্তদিনের সকালবেলা স্প্রে করে দিন, সব পোকা এক্কেবারে মরে যাবে। মাকড়ের আক্রমণও খুব হয়। এক্ষেত্রে এক লিটার জলে চার ফোঁটা এবামেক্টিন জাতীয় কীটনাশক মিশিয়ে দু’দিন স্প্রে করতে হবে। ফাঙ্গাসের আক্রমণে এই গাছে ডাল-শুকানো রোগ হয়। এটা ঠেকাতে মাসে একবার আধ চা-চামচ ফাঙ্গিসাইড ভেজা মাটিতে ছড়িয়ে দিতে হবে।   

কাটাই-ছাঁটাই ও রি-পটিং কোন সময় করবেন?

টেকোমার শেকড় খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গাছও তাই। এ-কারণেই বছরে একবার এই গাছের হার্ড প্রুনিং ও রি-পটিং করা উচিত। এটা করবেন শীত শেষ হয়ে আসছে এমন সময়। তাতে গাছের গ্রোথ ভালো হয় এবং ফুলও বেশি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে মাটি থেকে এক ফুট রেখে, গাছের বাকি অংশটা ছেঁটে কাটা অংশে ফাঙ্গিসাইডের পেস্ট লাগিয়ে দেবেন। তারপর পঞ্চাশ থেকে পঁচাত্তর শতাংশ শেকড় ছেঁটে এক সাইজ বড় টবে রি-পটিং করবেন। আদর্শ মাটি তৈরি করে, টবের ড্রেনেজ ঠিক রেখে সেই মাটি কিছুটা দিয়ে তার ওপর এক চামচ এপসম সল্ট বা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপর ছাঁটাই করা গাছটা বসিয়ে চারপাশে মাটি দিয়ে ভালো করে চেপে দেবেন। তারপর টবে কানাভর্তি জল দিয়ে এবং তিন-চারদিন ছায়ায় রেখে তবে টবশুদ্ধ গাছ রোদে রাখবেন।

নতুন চারা তৈরি করবেন কীভাবে?

বছরের যে-কোন সময় রুট-হরমোন ছাড়াই টেকোমার গাছের ডাল থেকে সহজে চারা তৈরি করে নেওয়া যায়। কাটা ডাল দোআঁশ বা বেলে মাটিতে পুঁতে দিয়ে মাটি সবসময় হালকা ভেজা ভেজা রাখবেন। এতেই কুড়ি থেকে পঁচিশ দিনের মধ্যে আপনি টেকোমার নতুন চারা পেয়ে যাবেন।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...