কালী কথা: সূত্রাগড়ের সিদ্ধেশ্বরী কালী

নদিয়ার শান্তিপুরের সূত্রাগড় অঞ্চলে রয়েছে প্রাচীনতম সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির। মন্দিরের বয়স প্রায় পাঁচশো বছর। ঐতিহাসিকদের মতে, এটিই নদীয়ার প্রাচীনতম মন্দির। কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে শান্তিপুরের চরপানপাড়া বালিয়াডাঙায় এক তন্ত্রসাধক থাকতেন। তিনি, নিজের আশ্রমের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন দেবী কালিকাকে। খড়ের তৈরি মন্দিরে শুরু হয় পুজো পাঠ। মন্দিরের পাশে দিয়েই বয়ে যেত গঙ্গা। গঙ্গায় ভাঙন দেখা দিলে, সেই তান্ত্রিক মায়ের ঘট গঙ্গায় ভাসিয়ে দেন। 

মা কালীর আদি ঘট আর পাটা ভাসতে ভাসতে চলে আসে শান্তিপুরের গড়ের বাজারে। তারপর সেই তন্ত্রসাধক মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী কালী তাঁকে পুনরায় পুজো শুরু করার নির্দেশ দেন। পুনরায় মায়ের পুজো শুরু করেন তান্ত্রিক। এগিয়ে আসে চট্টোপাধ্যায় পরিবার। তাঁদের সহযোগিতায় চুনসুড়কি দিয়ে মায়ের মন্দির নির্মাণ হয়। মূল মন্দিরের অন্দরে রয়েছে মহাদেবের দুটি মন্দির এবং জগদ্ধাত্রী মায়েরও একটি মন্দির আছে। আজও সিদ্ধেশ্বরী মায়ের নিত্য পুজো হয়। বারো বছর পর পর মায়ের নবকলেবর হয়। মায়ের প্রতিমা ঠাকুরদালানেই নির্মিত হয়। মূল মন্দিরের স্থাপত্য অপরিবর্তিত রেখে সংস্কার করা হয়। সে'সময়কার মন্দিরের মূল কাঠামো আজও অক্ষত রাখা হয়েছে। 

শান্তিপুরে আরও এক প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, অনুমানিক ১৬০৬ সালে, আজ প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভবানন্দ মজুমদার এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানা যায়। ভবানন্দ মজুমদার ছিলেন কৃষ্ণনগরের রাজ বংশ অর্থাৎ কৃষ্ণচন্দ্র রায়দের বংশের প্রতিষ্ঠাতা। ভবানন্দ মজুমদার পার্বতীচরণ মুখোপাধ্যায় বা মতান্তরে ফকিরাচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের হাতে কালী মন্দিরের দায়িত্ব দেন। দীপান্বিতায় অমাবস্যায় মন্দিরের বার্ষিক পুজো হয়। সারা রাত ধরে পুজো দেওয়া হয়। সেদিন রাত্রে দেবী কালীকে রাজবেশে সাজানো হয়। সিদ্ধেশ্বরীকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদাভাত, পায়েস, লুচি, ভাজা, সুজি, মাছ, তরকারি, চাটনি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে শহরের অন্যান্য মন্দিরের পুজো শুরু হয়। একদা মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি পূজিত হত এখানে। এখন পাথরের কালী মূর্তি পূজিত হচ্ছে। ১৩৮৭ বঙ্গাব্দে কাশী থেকে এই মূর্তি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...