স্কুল দত্তক নিয়ে প্রশংসিত দুই ছাত্র

 

শিবপুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র অয়ন এবং সৌম্যদীপ। ২০১৬ সালে আইজিবিসি গ্রিন বিল্ডিং ডিজাইন কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেন এই দুই ছাত্র। কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইথোস ইন্ডিয়ার উদ্যোগে করা এই প্রতিযোগিতা ছিল একটি জাতীয় প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল যেকোনো গ্রামকে আর্থিক পুনর্গঠনের আদর্শ মডেল গড়ে তোলা। এই প্রতিযোগিতার জন্য তারা বেছে নেয় জৌগ্রাম কে। সেই গ্রামের পুকুরগুলিতে প্রচুর পরিমানে মাছ চাষ হলেও বিক্রি তেমন ভালো নয়। তাই এই গ্রামকেই তারা বেছে নেয়। এই ধারণার জন্য সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয় তারা।

এইখানেই অয়ন আর সৌম্যদীপের প্রশংসা প্রাপ্তির শেষ নয়। তাদের পরবতী কাজটি আরও প্রশংসার দাবি রাখে। তারা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পরেই বিদেশে পাড়ি দেয়। কিন্তু বিদেশে থাকাকালীন তারা খবর পায় প্রতিযোগিতায় তারা প্রথম হয়েছে। তখনই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। প্রচুর অর্থের হাতছানি উপেক্ষা করে দেশের জন্য কিছু করতে চাওয়া অয়ন এবং সৌম্যদীপ জেলার এক শিশু শিক্ষা কেন্দ্রকে দত্তক নিয়ে সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে। যেই গ্রামকে তারা প্রতিযোগিতার বিষয় বানিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন সেই গ্রামের অর্থাৎ বর্ধমানের জৌগ্রামের কলুপুকুরের পঞ্চায়েত দফতরের শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় এই দুই ইঞ্জিনিয়ার।

একটি কর্পোরেট সংস্থার সাহায্য নিয়ে এই স্কুলটিকে নতুন করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে অয়ন ও সৌম্যদীপ। জানা গেছে, স্কুলের স্যাঁতস্যাঁতে ঘরগুলির দেওয়ালে পড়েছে নতুন রঙের প্রলেপ। তার সাথে এক একটি ক্লাসে রয়েছে এক একরকম বার্তা। একটি শ্রেণীকক্ষে রয়েছে শিক্ষার্থীদের হাতের ছাপ। সৌম্যদীপ জানিয়েছে, সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের হাতের ছাপ স্কুলের দেওয়ালে থাকলে প্রতিটি শিশুই সেই স্কুলকে নিজের স্কুল মনে করবে। অভ্যন্তরীণ দিকটি সাজানোর সাথে সাথে তারা স্কুলের বাইরের সাজের উপরেও কড়া দৃষ্টি দিয়েছে। অয়ন জানায়, সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার পর সেই সময়ের তৎকালীন রেলমন্ত্রী তাদের অনুরোধ করে দেশের জন্য কিছু করার।

অয়ন ও সৌম্যদীপ জানায়, সেই প্রতিযোগিতায় পাওয়া সমস্ত পুরস্কারের অর্থ তারা তুলে দিয়েছে এই গ্রামেরই কল্যাণার্থে। এইটুকুতেই থেমে যায়নি তাদের অভিযান। এর পরে স্বাধীনতা দিবসে সেই স্কুলে তারা পৌঁছায় নানা উপহার নিয়ে। বিলেত ফেরত অয়ন ও সৌম্যদীপের বক্তব্য, সেই স্কুলে যাতে পড়াশোনা করার স্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি গড়ে ওঠে তার জন্যই এতকিছু করছে তারা।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...