ডিমে অ্যালাৰ্জি থাকলে কি খাবেন দেখে নিন

অনেকেই আছেন যাদের সব ধরণের খাবার সহ্য হয় না। কারোর চিংড়ি সহ্য হয় না তো কারোর আবার বেগুন। অনেকেই আছেন যাদের আবার ডিম খেলে অ্যালাৰ্জি দেখা যায় শরীরে। খাবার থেকে কেন হয় এই অ্যালাৰ্জি চলুন আগে সেটা জানা যাক। ফুড অ্যালাৰ্জি তখনই হয় যখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম মনে করে শরীরে কোনো হার্মফুল সাবস্টেন্স প্রবেশ করেছে। তখন শরীর সেই অবাঞ্ছিত সাবস্টেন্সটি দূর করার জন্য নানা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। একেই বলা হয় ফুড অ্যালাৰ্জি। অনেকের ডিম খেলে শরীরে অ্যালাৰ্জি হতে দেখা যায়। অ্যালাৰ্জির নানা লক্ষণগুলির মধ্যে কম কিছু লক্ষণ হলো, ত্বকে ফুসকুড়ি বেরোনো থেকে শুরু করে চুলকানি ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ঠোঁট, জিভ, গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, পেটব্যথা, বমি এবং ডায়রিয়া। কিছু ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি অল্প হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে।

 

শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য চাই পুষ্টি। আর সস্তায় পুষ্টি মেটাতে পারে একমাত্র ডিম। একটি ডিম থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ক্যালোরি শক্তি তো পাওয়া যায়ই তার সাথে সাথে প্রোটিনের একটি বিশাল ভান্ডার হিসেবে কাজ করে ডিম। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম একটি সুষম আহার। তাই কারোর যদি ডিমে অ্যালাৰ্জি থাকে তাহলে সমস্যা হয় বৈকি। সেই ক্ষেত্রে পুষ্টির জন্য কি খাবেন আর কি খাবেন না এই নিয়ে বেশ ভাবনাচিন্তা শুরু করতে হয়। চলুন সেই ভাবনার কাজটা আজ একটু কমিয়ে দিই। চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিম খেতে না পারলেও তার সাবস্টিটিউট হিসেবে কি কি খেতে পারবেন..........................

 

১) টকদই- লিভারে প্রোবায়োটিক উপাদানের জোগাড় বাড়াতে টকদইয়ের তুলনা নেই। তাই শিশুর পাতে প্রতিদিন রাখুন টকদই। ডিম থেকে পাওয়া পুষ্টির ঘাটতির অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম টকদই। এছাড়াও শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে টকদই। আজকাল বাজারে প্যাকেটজাত টকদই কিনতে পাওয়া যায়। এছাড়াও মিষ্টির দোকানেও টকদই পাওয়া যায়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি উপকারী হলো বাড়িতে পাতা টকদই। দই-ভাত, ফ্রুট স্যালাডের সাথে দই কিংবা ওটসের সাথে, যাই দিয়েই খান না কেন পুষ্টির অভাব মেটাতে পাতে দই রাখাটা মাস্ট।

 

২) সয়াবিন- যারা আমিষ খান না তাদের ক্ষেত্রে সমস্ত পুষ্টির যোগান দিতে পারে সয়াবিনউদ্ভিজ্জ প্রোটিনের সেরা উৎস সয়াবিন। সন্তানের পুষ্টির অভাব মেটাতে তার পাতে রোজ দিন সয়াবিন। বাজারে সহজলভ্য সয়াবিন বাড়িতেই হালকা করে রান্না করে দিন। বাজারে  সয়াবিনের ফ্লেক্স পাওয়া যায় কিন্তু সেগুলির থেকেও বেশিরভাগ বাড়িতে বাড়িতে যে সয়াবিন রান্না হয় সেটিই বেশি উপকারী।

 

৩) পনির- ডিম খেলে যাদের সমস্যা হয় তারা পুষ্টির জন্য পনিরের উপর ভরসা রাখতে পারেন। সম্পূর্ণ  দুধ দিয়ে তৈরী এই পনির ডিমের বিকল্প হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। মিষ্টির দোকানে খুব সহজেই পনির পেতে পারেন। কিন্তু তার খেতেও ভালো হয় যদি নিজে বাড়িতে পনির বানিয়ে নেন তাহলে। এছাড়াও পনিরের বদলে ছানাও ব্যবহার করতে পারেন। ছানাকে মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নিলে ক্রিমের মতো হয়ে যায়। সেই ক্রিম দিয়ে তরকারি বানিয়েও খেয়ে পারেন। তবে পনির পরোটা একটু এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ পনির অতিরিক্ত পরিমান তেল টানে আর পরোটা ভাজার সময়েও তেলের প্রয়োজন হয়। তাই শরীরের কথা চিন্তা করে রোজকার পাতে পনির পরোটা না রেখে স্যালাডের মধ্যে পনির হালকা ভেজে দিয়ে দিন কিংবা পাতলা ঝোল করে নিন।

 

৪) কলা- ফলের মধ্যে আম এবং কলা এই দুটো ফল ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। কলাতে থাকে প্রচুর পরিমান পটাসিয়াম। এছাড়াও কলাতে উপস্থিত ফাইবার পেট ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন একটি করে কলা যদি খাওয়া যায় তাহলে উপকার হয়। অনেক বাচ্চা আছে যারা ফল খেতে পছন্দ করে না। তাদের ক্ষেত্রে ফ্রুট স্যালাড বানিয়ে তার সাথে টকদই মিশিয়ে দিয়ে দেখতে পারেন।

 

শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য পুষ্টির পরিমান সঠিক থাকা অত্যন্ত দরকার। তাই ডিমে অ্যালাৰ্জি হলেও পাতে রাখুন এইসব খাবার। শরীর সঠিক পুষ্টি না পেলে ধীরে ধীরে তা ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, কাজ করার এনার্জি পাওয়া যায়না। তাই ডিম না খেতে পারলেও চিন্তার কোনো ব্যাপার নেই। পাতে  রাখুন পনির, টকদই,কলা এবং সয়াবিনকে।  

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...