সামনেই আসছে শ্রাবণ মাস। আর শ্রাবণ মাস মানেই ভগবান শিবের বিশেষ পূজার্চনা। ভোলানাথ মহেশ্বরের পুজোয় গোটা মাস ধরেই ব্যস্ত থাকেন ভক্তরা। শ্রাবণ মাসের সোমবারে শিবপুজোর সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখা দরকার।

ভক্ত বিশ্বাস, বেল পাতা অর্থাৎ ‘বিল্বপত্র ভোলানাথের খুব প্রিয়। এই পাতা শিবের মন শান্ত রাখে এবং শান্তি দেয়। শিব ভক্তরা মনে করেন যে বেলপাতা ছাড়া মহাদেবের পুজো অসম্পূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, শিবকে বেলপাতা নিবেদন করলে তবেই তিনি প্রসন্ন হন।
কিন্তু জানেন এই বেলপাতার জন্ম হয় কীভাবে?
স্কন্দপুরাণ অনুযায়ী, মা পার্বতীর ঘাম থেকেই জন্ম হয় বেল গাছের। একবার মা পার্বতীর কপালে ঘাম জমেছিল এবং মন্দার পাহাড়ে সেই ঘামের ফোঁটা পড়েছিল এবং সেই সময়ে বেল গাছের জন্ম হয়। সেই কারণেই শিবের আরাধনার অন্যতম উপকরণ হল বেলপাতা।

কথিত আছে যে বেল পত্রের গাছে পাঁচ দেবী বাস করেন — গিরিজা, মহেশ্বরী, দক্ষিণানী, পার্বতী এবং মাতা গৌরী । এই পাতা তিনটি একত্রে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর বলে মনে করা হয়।
শিবলিঙ্গে বেল পাতা অর্পণ করার সময় মনে রাখবেন পাতার মসৃণ অংশটি যেন নীচে থাকে এবং বেল পাতা চক্র ছাড়া হওয়া উচিত। শিবলিঙ্গে ১, ১১ বা ২১ টি বেলপাতা নিবেদন করা শুভ। তিনটি বেলপাতা একত্রে থাকলে তবেই তা পুজোর উপকরণের নিঁখুত বেলপাতা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বেল পাতায় যদি বেশি অক্ষর থাকে, তবে সেটা ভালো মনে করা হয়। এই পাতা কখনও বাসি হয় না। যদি বেল পাতা না থাকে তবে অন্যের দেওয়া বেল পাতা ধুয়ে শিবকে আবার নিবেদন করা যেতেই পারে। শুধু বেল পাতাকে কখনও অসম্মান করা উচিৎ নয়।
অবশ্যই মনে রাখবেন যে চতুর্থী, অষ্টমী, নবমী, চতুর্দশী, অমাবস্যা তিথি, সংক্রান্তি এবং সোমবার-এই দিনগুলোয় বেল পাতা ভাঙা উচিত নয়। এই তিথিতে ভাঙা বেল পাতা শিবের মাথায় নিবেদন করা যাবে না।
বেল পাতা অর্পণের মন্ত্র হল-
নমো বিল্ল্মিনে চ কবচিনে চ নমো বর্ম্মিণে চ বরূথিনে চ
নমঃ শ্রুতায় চ শ্রুতসেনায় চ নমো দুন্দুষ্ভ্যায় চা হনন্ন্যায় চ নমো ঘৃশ্ণবে।।
দর্শনং বিল্বপত্রস্য স্পর্শনম্ পাপনাশনম্। অঘোর পাপ সংহারং বিল্ব পত্রং শিবার্পণম্।।
ত্রিদলং ত্রিগুণাকারং ত্রিনেত্রং চ ত্রিধায়ুধম্। ত্রিজন্মাপাপসংহারং বিল্বপত্রং শিবার্পণম্।।
গৃহাণ বিল্ব পত্রাণি সপুষ্পাণি মহেশ্বর। সুগন্ধীনি ভবানীশ শিবত্বংকুসুম প্রিয়।
In English

