৩৬ বছরে প্রথম! মেন্টর বিশ্বনাথন আনন্দকে টপকে দেশের সেরা দাবাড়ু ১৭ বছরের গুকেশ

“সফল দাবাড়ু হওয়ার জন্য সবচেয়ে জরুরি খেলাটাকে উপভোগ করা। আর আত্মবিশ্বাস। কখনই হাল ছাড়লে চলবে না। আমি চাই ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হতে।”

বয়স তখন মাত্র বারো, ধীর স্থির কিশোর নজর কেড়ে নিয়েছিল গোটা দাবা দুনিয়ার। আগামীর তারকা হিসেবে মন জয় করে নিয়েছিল আপামর দাবাপ্রেমীর। বারো বছর বয়সে দেশের তরুণতম, বিশ্বের দ্বিতীয় নবীনতম গ্র্যান্ড মাস্টার হয়েছিল ডোম্মারাজু গুকেশ। সেদিনের কিশোর, আজকের তরুণ ১৭ বছরের গুকেশ ডি ফের অঘটন ঘটালেন।

ভারতের সেরা দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে আসতে চলেছেন গুকেশ। ৩৬ বছর পর ভারতের সেরা দাবাড়ুর তকমা হারাতে চলেছেন বিশ্বনাথন আনন্দ। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চলে যাবেন দ্বিতীয় স্থানে। ভারতীয় দাবাড়ুদের মধ্যে শীর্ষে উঠে আসবেন গুকেশ।

আজারবাইজানের বাকুতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় রাউন্ডে জিতে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করেছেন গুকেশ। বিশ্ব দাবা সংস্থা বা ফিডের ক্রমতালিকায় অবশ্য এখনও আনন্দই শীর্ষে রয়েছেন ভারতীয়দের মধ্যে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফিডে নতুন যে ক্রমতালিকা প্রকাশ করবে, তাতে শীর্ষে উঠে আসবেন গুকেশ। গত এপ্রিল মাসে ফিডের ক্রমতালিকায় প্রথম ১০০ জনের মধ্যে এসেছিলেন ১৭ বছরের গ্র্যান্ডমাস্টার। বর্তমানে তিনি বিশ্ব ব়্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে বিশ্বনাথন আনন্দ দশম স্থানে রয়েছেন।

 

ফিডের পরের ক্রমতালিকায় বিশ্বের প্রথম ১০ জন দাবাড়ুর মধ্যে জায়গা করে নেবেন গুকেশ। ভারতের তৃতীয় দাবাড়ু হিসাবে বিশ্বের প্রথম ১০ জনের মধ্যে আসবেন তিনি। আনন্দ ছাড়া এই কৃতিত্ব রয়েছে শুধু পি হরিকৃষ্ণের। গত জুলাই মাসে গুকেশ লাইভ রেটিংয়ে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন আর এক প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনকে। কার্লসেন ২০১১ থেকে বিশ্বের এক নম্বর দাবাড়ু ছিলেন এতদিন।

বিশ্বের সব থেকে কম বয়সী দাবাড়ু হিসাবে ২৭৫০ লাইভ রেটিং অর্জন করার কৃতিত্বও রয়েছে চেন্নাইয়ের খিলাড়ির।

১৯৯১ সালে প্রথমবার বিশ্ব ব়্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে আনন্দ জায়গা করে নিয়েছিলেন। গুকেশের মেন্টর আনন্দ। ছাত্রের সাফল্যে প্রচন্ড খুশি। ৩৬ পর স্যহান বদল হতে কোনও আক্ষেপ বা আফসোস নেই তাঁর। তিনি জানিয়েছেন দাবার প্রতি ওর ভালবাসা আর নিষ্ঠা দেখার মতো। দাবা বিশ্বের অনেককেই সে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে। সারাক্ষণ দাবা খেলতে পারে গুকেশ। দাবা নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করে। খেলার সময় বোর্ড ছাড়া কোথাও মন থাকে না।  এমন কিছু গুণ ওর মধ্যে আছে যাতে যা ওকে সেরা খেলোয়াড় করে তুলবে। গুকেশ সাহসী খেলোয়াড়। ঝুঁকি নিতে পারে। পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার মানসিকতা, লক্ষ্যে স্থির থাকা, আগ্রাসী মনোভাবে বাকিদের থেকে এগিয়ে আছেন আনন্দের প্রিয় ছাত্র।

ডোম্মারাজু গুকেশ দাবা দুনিয়ার গুকেশ ডি’র জন্ম চেন্নাই শহরে। ২০০৬ সালের ২৬ মে। বিশ্বনাথন আনন্দের জন্ম শহরও চেন্নাই। বাবা পেশায় চিকিৎসক। মা মাইক্রোবায়োলজিস্ট। খুব ছোটবেলা থেকেই দাবায় আগ্রহ। মাত্র সাত বছর বয়সে শতরঞ্জ শেখার ক্লাসে যেতে শুরু করেন।

২০১৮-তে ইউথ চেজ চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি সোনা জিতেছিলেন। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।  এখন বাকুতে FIDE বিশ্বকাপে ব্যস্ত গুকেশ। আগামী ২৫ অগস্ট পর্যন্ত চলবে এই কাপ। ২০২৪ দাবা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য যোগ্যতা অর্জনের মঞ্চ এটিই।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...