নাচের ব্যাপ্তিতে এক আকর ধনঞ্জয় মাহাতো

পুরুলিয়া শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে বালিগাড়া গ্রাম। পাশ দিয়ে বয়ে যায় কংসাবতী নদী। বালীগাড়া গ্রাম পরিচিত ছৌ-নাচের জন্য। যাকে কেন্দ্র করে এই পরিচিতি সেই মানুষটির নাম ধনঞ্জয় মাহাতো। ছৌ-নাচের ব্যাপ্তিতে তিনি এক আকর।
গোটা দেশ তো বটেই রাঢ় ভূমির এই লোকনৃত্যকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারা পৃথিবীতে। ধনঞ্জয় ওরফে ধূঁধা মাহাতোর শিল্পী হয়ে ওঠা তাঁর বাবার হাত ধরে। বাবা পেলারাম মাহাতো নিজেও ছিলেন ছৌ শিল্পী। সারা জীবন ধরে চেষ্টা করে গিয়েছেন ছৌ ঘরানাকে সমৃদ্ধ করে যাওয়ার।
বাবার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল তালিম। পুত্রকে সেরা শিল্পী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন পেলারাম। তাই নামকরা ছৌ-শিল্পী মাহিন্দি কালিন্দিকে ওস্তাদ রেখেছিলেন তিন ছেলের তালিমের জন্য। সেই তালিম বৃথা যায়নি।
ধনঞ্জয় মাহাতো ছৌ-এর সাবেকি নৃত্যধারা বহন করতেন। সানাই, মারাক্যাস, চেড়পেটি সহ প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার চলত তাঁর প্রদর্শনে। সুর তালের ক্ষেত্রেও পরীক্ষানিরীক্ষার বদলে ছৌ নাচের প্রাচীন ধারাটিকে মান্যতা দিতেন বেশি।
তাঁর কাছে ছৌ-নাচ বীররস প্রধান। মহিষাসুর, কার্তিক, গণেশ যে কোনও চরিত্র তেজে দীপ্ত হয়ে উঠত তাঁর। আজীবন বাবার শিক্ষা থেকে কখনও সরেননি। জান-প্রাণ সব সঁপেছিলেন ছৌ’কে। ছোটনাগপুরের ছৌ ধারাকে সেভাবেই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
বীররসের নৃত্যে ধূলোর ঝড় তুলবে পুত্র এই স্বপ্নেই দূরদর্শী পিতা পুত্রের নাম রেখেছিলেন ‘ধুঁধা’। কুড়মালি ভাষায় ধূলোর ঝড়কে বলা হয় ‘ধূঁধা’। সত্যি হয়েছিল পিতার স্বপ্ন।
সম্প্রতি চলে গেলেন ধনঞ্জয় ধুঁধা মাহাতো। তাঁর প্রয়াণে অবসান হল এক অধ্যায়ের।

Dhananjay-Mahato-body

You can share this post!

...

Loading...