অতিরিক্ত টেনশন হার্টের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর?

অতিরিক্ত টেনশন, দুশ্চিন্তা হার্টের পক্ষে কতটা ক্ষতিকর? কমবয়সীদের মধ্যে হার্টের সমস্যা কেন ক্রমশ বাড়ছে? হৃদযন্ত্রের সংকটে জীবনযাত্রা কতটা দায়ী? হার্ট কেয়ার নিয়ে বিস্তারিত জানালেন আনন্দলোক হসপিটালের কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ পঙ্কজ সরকার...

তিনি জানিয়েছেন হার্টের রোগ এখন পৃথিবীতে সবচেয়ে কমন ডিজিজগুলোর মধ্যে একটা। অল্প হাঁটলে, অল্প পরিশ্রম করলে হাঁফিয়ে পড়া, বুকে অস্বস্তি ভাব, হাত পা ঝিনঝিন করা, শ্বাস কষ্ট, অল্প তেই বুক ধড়পড়, ঘুম না হওয়া এরকম লক্ষণ দেখলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্ডিওলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বর্তমান সময়ের জীবনযাত্রা হৃদযন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। হার্টের রোগ ডেকে আনছে বলা যায়। টানা বসে থাকা, জাঙ্ক ফুড, শারীরিক কসরতের অভাব, অত্যাধিক মানসিক চাপ এসবের কারণে হার্টের রোগ অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। এমনকি তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও। ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাস বেড়ে গিয়েছে মানুষের মধ্যে। ওজন বেড়ে গিয়েছে। ১০-১২ বছরের কিশোর কিশোরীদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। তারওপর ফ্যামিলি হিস্ট্রিতে যদি থাকে তাহলে তো কথাই নেই। অনেকে তরুণদের মধ্যে হার্টের সমস্যায় করোনাকেও দায়ী করছেন। ডায়াবেটিস একাধিক প্রভাব ফেলে। রক্তের শিরায় ব্লকেজ দেখা দেয়, কিডনির রোগ বাড়ে, রক্তচাপের জটিলতা তৈরি হয়। রেটিনাও বাদ থাকে না। হার্টের রোগে একটি প্রশ্ন থাকে সাদা তেল নাকি সর্ষের তেল কোন তেল হার্টের জন্য উপযোগী। আসলে কোনও তেলই হার্টের উপকারী বন্ধু নয়। যতটা কম খাওয়া যায় ততই ভাল। মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন এখন ঘরে ঘরে। অবসাদের একাধিক কারণ। যাদের ডিপ্রেশন বা এনজাইটি থাকে তাদের হার্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

হার্টের রোগ এড়াতে প্রাথমিকভাবে সুস্থ জীবন শৈলীতে চলা উচিত। সময় মতো এক্সারসাইজ, সুষম খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যালোরি বর্জন করতে হবে। তামাকজাতীয় পণ্য পরিহার করতে হবে। সুগার, প্রেশার, কোলেস্টরল নিয়মিত চেক আপ করতে হবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।যদি কোনও সমস্যা ধরা পড়ে তাহলে নিয়ম করে ওষুধ খেতে হবে। চল্লিশ বছর বয়সের পর বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...