ডিম ভাঙলেই মুশকিল আসান! পার্সি নববর্ষ নওরোজের ভোজে কেন থাকে রঙিন ডিম

ইরানিয়ান সৌর ক্যালেন্ডার অনুসারে ‘ফারবারদিন’, অর্থাৎ বছরের প্রথম দিনটি হল নওরোজ। পার্সিয়ান ক্যালেন্ডারের আবিষ্কারক পারস্য সম্রাট জামশেদ-ই-নওরোজ-এর নামানুসারেই হয় পারসিদের বর্ষবরণ উৎসব ‘নওরোজ’। "নও" শব্দের অর্থ "নব" বা "নতুন" এবং "রোজ" শব্দের অর্থ হল "দিন"।

পারস্যরাজ জামশেদ-ই-নওরোজ-এর জামশেদের সম্মানে ৩ হাজার বছরের প্রাচীন এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। পার্সিদের পুরাণে বলা হয়েছে, জামশেদ পৃথিবীকে রক্ষা করেন। তাঁর শাসনে পারস্যে কখনও কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়নি। তাঁকে সম্মান জানাতেই এই উৎসব শুরু হয়।

মার্চ মাসের ২০-২১ তারিখ সূর্য যখন নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে, দিন-রাত্রি সমান হয় তখন বিশ্বের ইরানিদের মধ্যে পালিত হয় নববর্ষ উৎসব। দিনটি আসলে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে বসন্তের সূচনা-দিবস। তবে ভারতে এই ক্যালেন্ডার অনুসারে লিপইয়ার গোনা হয় না। তাই বিশ্বের অন্যত্র যে দিন নওরোজ পালিত হয়, ভারতে ও পাকিস্তানে তার প্রায় ১৫০ দিন পরে উদ্‌যাপিত হয়।

জাহাঙ্গির ও আকবরের সময়ে দিল্লির দরবারে ধুমধাম করে নওরোজ পালিত হত।

নওরোজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভোজ। এই দিন বিশেষভাবে সাজানো হয় টেবিল। এই প্রথার নাম ‘হাফত-সিন’। সূর্যের সাত রশ্মির প্রতীকে এ দিন টেবিল সাজানো হয় এমন সাতটি জিনিস দিয়ে যাদের আরম্ভ ‘স/শ’ দিয়ে। কারণ সাড়ে তিন হাজার বছর আগে জরাথুস্ট্রপন্থীরা ছিলেন তেজ-এর উপাসক, তাঁদের আরাধ্য সূর্য ও অগ্নি।

সেই অনুযায়ী ফারসি উচ্চারণে শ দিয়ে শামা, শরবত, শরাব, শেহেদ, শীর, শালগম, শিরিনি থাকে টেবিলে। ফারসি উচ্চারণে ‘স’ দিয়ে আরম্ভ এমন সাতটি পদ থাকে মেনুতে— সবজে (একটি থালায় অঙ্কুরিত গম, বার্লি, ছোলা, মুগ যা নবজীবনের প্রতীক), সামানু (গম থেকে তৈরি মিষ্টি পুডিং, সমৃদ্ধির প্রতীক), সেঞ্জেদ (শুকনো বেরির বীজ, প্রেমের প্রতীক), সির (রসুন, ওষধির প্রতীক), সিব (আপেল, সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের প্রতীক), সুমাক (উদীয়মান সূর্যের রঙের প্রতীক, বেরি-জাতীয় ফলের রস থেকে তৈরি লালচে-কমলা মশলা মাখানো কাবাব), সেরখে বা সিরকা (ভিনিগার, আয়ু ও ধৈর্যের প্রতীক)।

অনেকে আবার টেবিলে একটি আয়না রাখেন, যাতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হতে পারে। রাখা হয় ধর্মগ্রন্থ কোরান, হাফেজ ও রুমির আধ্যাত্মিক কবিতার বই, একটি ঘড়ি (ইরানি ভাষায় ‘সাআত’) ও স্বর্ণমুদ্রা (সিক্কে)। সঙ্গে থাকে রং-করা ডিম। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুসারে থাকে ডিম,  যার খোলার উপরে আঁকা থাকে রঙিন নকশা।

পার্সিদের মধ্যে প্রচলিত প্রবাদ, ‘হোয়েনেভার ইন প্রবলেম, ব্রেক অ্যান এগ।’

ভারতে নওরোজ উৎসব দু’বার পালিত হয়। একবার ২১ মার্চ গোটা বিশ্বের সঙ্গে আর একটি উদযাপন হয় অগস্ট মাসে। ২০২৪-এর ১৫ আগস্ট দেশের পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষরা দ্বিতীয়বার উদযাপনে মাতবেন।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...