প্রথম সারির অভিনেতারা সমকামী চরিত্রে স্বাচ্ছন্দ নন

বিগত কয়েকবছরে ভারতীয় চলচ্চিত্র ভাষার বিপুল পরিবর্তন এসেছে। এখন গতানুগতিকতার  বাইরে বেরিয়ে বিভিন্ন ব্যতিক্রমী বিষয়ধর্মী ছবি বেছে নেওয়ার দিকেই ঝুঁকছেন পরিচালক থেকে শুরু করে অভিনেতা অভিনেত্রীরা, যার ফলে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের ভালোবাসা ও সমালোচকদের প্রশংসা দুই'ই কুড়িয়ে নিচ্ছেন তাঁরা। এইসব ব্যতিক্রমী বিষয়ধর্মী ছবির তালিকায় বহুবার জায়গা করে নিয়েছে 'homosexuality' বা  'সমকামীতা'। আগে এই বিষয়টি নিয়ে সমাজে 'ছুঁৎমার্গ' থাকলেও, বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের মান্যতা পাওয়ার পর সাবালক হতে শুরু করেছে সমাজ-দর্শকদের চিন্তাভাবনাও। কিন্তু এখনও সমকামী চরিত্রে অভিনয় করতে আপত্তি জানান অনেক প্রথমসারির অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন পরিচালক ওনির

সমকামীতা যখন সুপ্রিমকোর্টের মান্যতা পায়নি সেই সময়ই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে 'মাই ব্রাদ্রার নিখিল'-এর মত ছবি বানিয়েছিলেন তিনি, পরে বানিয়েছিলেন  'আই অ্যাম', সেখানেও উল্লেখ ছিল সমকামীতার। শুধু তাই নয়, এই ছবি দু'টি কুড়িয়ে নিয়েছিল সমালোচকদের প্রশংসাও। তাঁর কথায়, "আমার মনে হয় অন্য়ান্য় মূলধারার ছবির মতো এই বিষয়ের উপর নির্মিত ছবি গুলিও মুক্তি পাওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক গুনী এবং প্রথম সারির অভিনেতা রয়েছেন যাঁরা এখনও এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগেন। আমি অনেক অভিনেতাকেই এই ধরনের চিত্রনাট্য শুনিয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁরা কেউই রাজি হননি। তাঁরা মুখে কিছু না বললেও এটা বোঝা যায় যে তাঁরা তাঁদের জনপ্রিয়তা হারাবারই ভয় পান। ঠিক এই কারণেই  আমি সেই সমস্ত অভিনেতাদের অত্যন্ত সম্মান করি যাঁরা সমকামী চরিত্রে অভিনয় করতে ভয় পাননা।"       

     এই বিষয়ে লেখক গজল ধালীওয়াল বলেন, "আমি জানি দিনের শেষে ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবসাটাই শেষ কথা। কিন্তু আমি মনে করি প্রথম সারির অভিনেতাদেরও সমকামী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এগিয়ে আসা দরকার, সমাজে সামগ্রিক পরিবর্তন আনতে গেলে ঝুঁকি তো নিতেই হবে।" 

প্রসঙ্গত, ২০১৮-তেই ভারতে সমকামিতাকে আইনি বৈধতা দেয় সুপ্রিমকোর্ট। সুপ্রিমকোর্টের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সমকামিতা কোনো অপরাধ নয়, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক সমলিঙ্গের মানুষ সম্পর্কে আবদ্ধ হতেই পারেন। ব্রিটিশ আমলে সমকামিতাকে অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছিল ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারায়। স্বাধীনতার পরেও থেকে গিয়েছিল সেই আইন। এই আইনের জেরে একজন সমকামীর ১০ বছরের জেল হতে পারত এতদিন। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট সমকামিতাকে মান্যতা দিলেও সুপ্রিমকোর্ট তা বাতিল করে দেয়। এরপরই এলজিবিটি সম্প্রদায়ের তরফে পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সুপ্রিমকোর্টকে বিষয়টি ফের একবার বিবেচনা করতে আবেদন জানান। পাঁচ বছর ধরে শুনানি চলার পর শেষ পর্যন্ত এলজিবিটি সম্প্রদায়ের পক্ষেই রায় দেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি বলেন, সমকামিতাকে অপরাধ বলা হয়েছে বলে এলজিবিটি কমিউনিটির মানুষজন সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকেন। কিন্তু এখন থেকে সমকামিতা আর অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না। দুই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সমকামিতায় লিপ্ত হলে কারও কিছু বলার নেই।   

 

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...